কাদার স্রোতে চোখের পলকে গিলে নিল আস্ত ভবন, নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহ দৃশ্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
নেপাল-চীন সীমান্তে আচমকাই নেমে এল ভয়াবহ বিপর্যয়। পাহাড়ঘেরা জনপদে মুহূর্তেই ছুটে এল কাদামাটি, পাথর আর পানির প্রবল স্রোত। চোখের সামনে ভেসে গেল ঘরবাড়ি, ভবন, রাস্তা ও সেতু। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে দেখা গেল রুদ্ধশ্বাসে ছোটাছুটি করতে। হড়পা বানের সেই ভয়াবহ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বত প্রদেশের গিরং এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা। ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের কোলে স্বাভাবিকভাবেই চলছিল মানুষের জীবনযাত্রা। রাস্তা দিয়ে চলছিল যানবাহন, ভবন থেকে বের হচ্ছিলেন মানুষ। হঠাৎই পরিস্থিতি বদলে যায়। আতঙ্কে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ দ্রুত গাড়ি নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনের পেছন দিক থেকে ধেয়ে আসে কাদামাটির বিশাল স্রোত। পানি, কাদা ও পাথরের তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় আশপাশের এলাকা। প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায় বিভিন্ন স্থাপনা ও মানুষকে। একপর্যায়ে পুরো এলাকা ঢেকে যায় ঘন কাদায়।
নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার সকালে ভোটেকোশী নদীতে আকস্মিক হড়পা বান আসে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির পর্যটন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৯১ জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। তাঁরা কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে নেপালে যাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নেপালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতও কাজ করছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দ্রুত নেপালে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।




















