‘বিদ্যুৎ যায়, আলু পচে’—জয়পুরহাটে ২ লাখ টন আলু নিয়ে শঙ্কা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিক, কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় হিমাগারে সংরক্ষিত বীজ ও খাবার আলুর মান ও সংরক্ষণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাচ্ছেন হিমাগার মালিকরা। এতে প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে বাড়তি জ্বালানি খরচ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলায় মোট ২২টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে কালাইয়ে ১৪টি, ক্ষেতলালে চারটি, পাঁচবিবিতে দুটি এবং আক্কেলপুরে দুটি। এসব হিমাগারে প্রায় ২ লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষিত রয়েছে।
হিমাগার মালিকদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে সংরক্ষিত আলু পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়।
লোকসানের পর এবারও দুশ্চিন্তায় কৃষক
কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের লোকসানের ধাক্কাই তাঁরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ বছরও বাজারে আলুর দাম প্রত্যাশার তুলনায় কম। লাভের আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাঁরা এমনিতেই চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে নতুন করে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষক চঞ্চল বাবু বলেন, “আমি ১০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছি। আলুর দাম না থাকায় খুবই চিন্তিত। আবার লোডশেডিংয়ে আলু পচে গেলে সব শেষ।”
প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ
কালাইয়ের পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, তাঁদের হিমাগারে চারটি কোম্পানির বীজ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই তাপমাত্রা ঠিক রাখতে জেনারেটর চালাতে হয়।
তিনি বলেন, “জেনারেটর চালু না করলে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেনারেটরের তেল কিনতে গিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।”
আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর হিমাগার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আহম্মেদও একই সমস্যার কথা জানান। তাঁর হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার টন বীজ ও খাবার আলু রয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাঁচবিবির চাঁনপাড়া এলাকার মেসার্স সাথী হিমাগার-৩-এর ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরীও লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়তি ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন।
তাপমাত্রা ঠিক রাখা নিয়ে শঙ্কা
ক্ষেতলালের হিমাদ্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁদের হিমাগারে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ হাজার বস্তা বীজ আলু এবং বাকিগুলো খাবার আলু।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হিমাগারের নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিপুল পরিমাণ আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আলু রক্ষায় লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালু রাখা হচ্ছে।
চাহিদা বাড়লেই লোডশেডিং
জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা একই থাকে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ে, তখন লোডশেডিং করতে হয়। গরম বেশি থাকলেও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ে।
তবে তাঁর দাবি, আগের কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে।
হিমাগারে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ আলুর বড় অংশ এখন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের শেষ ভরসা। বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা না এলে একদিকে যেমন বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের বোঝা বাড়বে, অন্যদিকে আলু নষ্ট হয়ে কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কাও আরও তীব্র হতে পারে।




















