ঈদে মিলাদুন্নবীতে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
বর্তমান বিশ্বের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ব্যাহত করছে। এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মকে মহানবীর আদর্শে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন।



















