ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে গ্রেপ্তার হলেন বিদিশা এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। ২০০৮ সালে দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজা এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশান থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল। বিচার শেষে ওই মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড হয়। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।

ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি, ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বারিধারায় ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন থাকায় বিভিন্নজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মোশাররফ হোসেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাঁকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।

চুক্তির পর ২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। সেখানে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। মোশাররফ হোসেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে তাঁদের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

ফ্ল্যাটও মেলেনি, ফেরত পাননি টাকাও

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে বিদিশা টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। এমনকি তাঁকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।

আদালতের রায়

এই মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যে কারণে গ্রেপ্তার হলেন বিদিশা এরশাদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। ২০০৮ সালে দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজা এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশান থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল। বিচার শেষে ওই মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড হয়। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল।

ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি, ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বারিধারায় ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন থাকায় বিভিন্নজনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে মোশাররফ হোসেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাঁকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।

চুক্তির পর ২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। সেখানে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। মোশাররফ হোসেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে তাঁদের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

ফ্ল্যাটও মেলেনি, ফেরত পাননি টাকাও

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে বিদিশা টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। এমনকি তাঁকে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।

আদালতের রায়

এই মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।