বাঘাবাড়ি ঘি ও বম্বে সুইটসের মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাঘাবাড়ি ঘি ও বম্বে সুইটসের মসলাসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের বিপরীতে দেওয়া বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিএসটিআই জানায়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সন্তোষজনক পাওয়া গেলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া যায়নি।
‘ঘি’তে মিল্ক ফ্যাট নেই
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে নির্ধারিত মাত্রার ‘মিল্ক ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন প্যারামিটারে নির্ধারিত মানের তুলনায় নিম্নমানের প্রমাণিত হয়েছে আরও কয়েকটি ঘি ও বাটার অয়েল।
নিম্নমানের পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ঘি ও ‘সিটি’ ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ বাটার অয়েল।
পরীক্ষায় এসব পণ্যে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলাও পরীক্ষায় অকৃতকার্য
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পাঁচ ধরনের মসলা বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।
পণ্যগুলো হলো—
- কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা—ব্যাচ নং ১৪১২২৪
- তেহারি মসলা—ব্যাচ নং ১৪০২২৬
- কালা ভুনা মসলা—ব্যাচ নং ২৬০৯২৭
- গরুর মাংসের মসলা—ব্যাচ ‘এ’
- মাছের মসলা—ব্যাচ ‘এ’
বিএসটিআই জানিয়েছে, এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বাংলাদেশ মানে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু
শুধু বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহার নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বিএসটিআই। এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পণ্য কেনার আগে যা দেখবেন
পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও লাইসেন্স নম্বর যাচাইয়ের পাশাপাশি উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।
কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে ১৬১১৯ নম্বরে বিএসটিআইয়ের হটলাইনে যোগাযোগ করা যাবে।




















