দলীয় পরিচয় ছেড়ে রাষ্ট্রপতি: ‘এখন সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষ মানুষ’

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। তাঁর কাছে এখন দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এসেছি। আমি এখন সম্পূর্ণভাবে একজন দলনিরপেক্ষ মানুষ। দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাব।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কারও প্রতি তাঁর রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
‘বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক’
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন শুধু একটি সরকারি কার্যালয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তসংক্রান্ত সব বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারি সম্পদ ব্যবহারে সাশ্রয়ের তাগিদ
রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় রোধের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের ব্যবহার হতে হবে সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনেও শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘আমরা এখানে একটা পরিবার’
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটা পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। আমরা যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’
ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্রগঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।





















