ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং রাডার অচল, তবু চলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস; গভীর সমুদ্রের তথ্য নিয়ে শঙ্কা হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি, বন্ধ ১৮ স্কুলের পাঠদান খেলাপির চাপে নড়বড়ে ১৫ ব্যাংক, প্রভিশন ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা ডিম-মুরগি থেকে মাছ-সবজি—ছয় মাসে ঢাকার বাজারে যতটা বদল ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা বিরোধীদের সঙ্গে নিয়েই জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ও মঈন খানের দায়িত্ব বাড়াল সরকার আর্থিক চাপে আমেরিকা, ইরান যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের শেখ সেলিমকে নেতৃত্বে আনার ইস্যুতে আওয়ামী লীগে নতুন অস্বস্তি?

বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু ও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। এ অর্থ ৩৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উৎপাদন খাতে নতুন করে অর্থায়নের ফলে বন্ধ কারখানা চালু হবে, বাড়বে উৎপাদন এবং তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো সম্মতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করবে।

তিনি জানান, ঋণের অর্থ যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে। ঋণ বিতরণ ও ব্যবহারের তথ্য একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এদিকে, স্বল্প সুদের এ ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেলেও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির সমাধান না করে শুধু অর্থায়ন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উৎপাদনে ফিরতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো যাচাই করা জরুরি।

তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, প্রণোদনার অর্থ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই অর্থায়ন শিল্পখাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু ও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। এ অর্থ ৩৭টি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উৎপাদন খাতে নতুন করে অর্থায়নের ফলে বন্ধ কারখানা চালু হবে, বাড়বে উৎপাদন এবং তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো সম্মতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গড়ে ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করবে।

তিনি জানান, ঋণের অর্থ যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হবে। ঋণ বিতরণ ও ব্যবহারের তথ্য একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এদিকে, স্বল্প সুদের এ ঋণ নিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেলেও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির সমাধান না করে শুধু অর্থায়ন করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উৎপাদনে ফিরতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তাই ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো যাচাই করা জরুরি।

তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, প্রণোদনার অর্থ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই অর্থায়ন শিল্পখাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।