ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্যক্তিস্বার্থের খেসারত, চালুর আগেই ২,৯৫৮ কোটি টাকার লোকসান শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টের রায় ৩১ আগস্ট ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে আসছে নীতিমালা ‘কারও মুখ বন্ধ করার মানসিকতা নেই, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের আরেক স্তম্ভ’ নভেম্বরে স্থানীয় সরকার ভোট, ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিলের পরিকল্পনা ইসির বাবার মরদেহ ঘরে, জমি ভাগাভাগি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ; পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন একই পরিবারের ৪ হত্যা: পুলিশের বয়ান ঘিরে প্রশ্ন, তদন্ত গেল ডিবিতে আশ্রয়প্রার্থীদের বড় ধাক্কা, ২ লাখের ভিসা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র রাজপথের লড়াই থেকে নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে আরিফুল ইসলাম আরিফ অসহায় মানুষের জন্য ‘শ্যামল বাংলা ফ্রি মেডিকেল সেন্টার’ চালু

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টের রায় ৩১ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর আগামী ৩১ আগস্ট রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ। নতুন করে ৩১ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

আসামি হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার

২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আছিয়া।

তার মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার পর আছিয়ার মা মাগুরা সদর থানায় হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজন খালাস

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্য তিন আসামি—সজীব শেখ, তাঁর ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টে শুনানি শুরু ১১ আগস্ট

হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে ৮ জুন ডেথ রেফারেন্স মামলার পেপারবুক বিজি প্রেস থেকে হাইকোর্টে পৌঁছায়।

১১ আগস্ট থেকে হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন আলোচিত এই মামলায় ৩১ আগস্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আছিয়ার পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: হাইকোর্টের রায় ৩১ আগস্ট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর আগামী ৩১ আগস্ট রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ। নতুন করে ৩১ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

আসামি হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক শুনানি করেন।

মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার

২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আছিয়া।

তার মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার পর আছিয়ার মা মাগুরা সদর থানায় হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজন খালাস

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্য তিন আসামি—সজীব শেখ, তাঁর ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টে শুনানি শুরু ১১ আগস্ট

হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে ৮ জুন ডেথ রেফারেন্স মামলার পেপারবুক বিজি প্রেস থেকে হাইকোর্টে পৌঁছায়।

১১ আগস্ট থেকে হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন আলোচিত এই মামলায় ৩১ আগস্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আছিয়ার পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা।