কাঁচামরিচে স্বস্তি, তবে ডিম-মাছের বাজারে অস্থিরতা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কাঁচামরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিম, মাছ এবং বেশির ভাগ সবজির উচ্চমূল্যে ভোগান্তি কমেনি। বাজারে ২০০ টাকার নিচে প্রায় কোনো মাছই মিলছে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ভারতীয় মরিচে কমেছে দাম
ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি কাঁচামরিচের দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা কমে বর্তমানে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সলিমুল্লাহ বলেন, ভারতীয় মরিচ আসায় সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম কিছুটা কমেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম এখনও বেশি, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে।
ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই
টানা দুই সপ্তাহ ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বাজারভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে। বড় বাজারগুলোতে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কিছু সবজিতে দাম কমলেও বেশির ভাগই চড়া
সবজির বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। লম্বা বেগুন, যা গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি ছিল, এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম কমে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
তবে গোল বেগুন এখনও প্রায় ১৫০ টাকা কেজি। কাঁচা পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া চালকুমড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং দেশি লাউ ৭০ থেকে ৯০ টাকা পিসপ্রতি বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম এখনও ৬০ টাকা কেজিতে স্থির রয়েছে। আলুর দামেও পরিবর্তন নেই; কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ
মাছের বাজারে দাম আরও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে পুকুরে চাষ করা বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম মানভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি। অন্যদিকে রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও বড় শোল মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকারও বেশি গুনতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের মাছ বিক্রেতা কামরুল ইসলাম বলেন, বাজারে চাষের মাছের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। বেশি দামে মাছ কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির পরিমাণও বেড়েছে।
ক্রেতাদের স্বস্তি নেই
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, কাঁচামরিচের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে ডিম, মাছ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও অনেক বেশি। ফলে একটি-দুটি পণ্যের দাম কমলেও সার্বিক বাজার ব্যয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরছে না।
























