চাকরির শুরুতে বেতন কত, পুরোনোদের বেতনই বা কত বাড়বে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বড় পরিবর্তন আসছে। বিসিএস ক্যাডারসহ নবম গ্রেডে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী—সবাই নতুন কাঠামোর আওতায় বাড়তি বেতন পাবেন। তবে নতুন ও পুরোনো চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির হিসাব এক নয়।
নবম গ্রেডে শুরু ৪৪ হাজার টাকা
বিসিএস ক্যাডারসহ অধিকাংশ প্রথম শ্রেণির চাকরিতে সাধারণত নবম গ্রেডে নিয়োগ হয়। এত দিন এই গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা।
তবে নতুন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে চলতি বছরের জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে।
অর্থাৎ নবম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজনের মূল বেতন ধাপে ধাপে হবে—
- প্রথম ধাপে: ৩০,৮০০ টাকা
- দ্বিতীয় ধাপে: ৩৭,৪০০ টাকা
- তৃতীয় ধাপে: ৪৪,০০০ টাকা
এর সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলে বেতন আরও বাড়বে। নবম গ্রেডে ইনক্রিমেন্টসহ সর্বোচ্চ মূল বেতন হতে পারে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।
ভাতা যোগ হলে মোট বেতন কত?
নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা ঢাকায় চাকরি করলে ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে পাবেন ২২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব, বৈশাখী ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে সব ভাতা কার্যকর হলে নবম গ্রেডে নতুন যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার মোট বেতন-ভাতা কমবেশি ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এই হিসাব আনুমানিক।
দশম গ্রেডের প্রধান শিক্ষকের বেতন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডের। এই গ্রেডে পুরোনো মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ৩২ হাজার টাকা।
তিন ধাপে এই বেতন কার্যকর হবে—
- প্রথম ধাপে: ২৪ হাজার টাকা
- দ্বিতীয় ধাপে: ২৮ হাজার টাকা
- তৃতীয় ধাপে: ৩২ হাজার টাকা
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যোগ হলে দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষকের মোট বেতন ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
সহকারী শিক্ষকদের বেতনও বাড়ছে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পান। এ গ্রেডের মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে শুরু হতো। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে হবে ২৪ হাজার টাকা।
প্রথম ধাপে মূল বেতন হবে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। পরে ধাপে ধাপে ২৪ হাজার টাকা কার্যকর হবে। ইনক্রিমেন্টসহ এ গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হতে পারে ৫৮ হাজার টাকা।
সব ধাপ বাস্তবায়ন ও ভাতা যুক্ত হলে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে।
২০তম গ্রেডেও বড় পরিবর্তন
সবচেয়ে নিচের ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে এ গ্রেডের কর্মচারীদের মোট বেতনও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
পুরোনোদের বেতন কত বাড়বে?
নতুন চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাব তুলনামূলক সহজ হলেও আগে থেকে চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল। কারণ তাঁদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধা একেকজনের একেক রকম।
ফলে সব পুরোনো চাকরিজীবীর বেতন একই হারে বাড়বে না।
এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করা ঢাকার একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বর্তমানে তাঁর মূল বেতন ২২ হাজার ৪৫০ টাকা। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে তিনি প্রায় ৩৬ হাজার টাকা পান। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর সব ধাপ বাস্তবায়ন হলে মোট বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
বিশেষ সুবিধা থাকছে না
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হবে। একই সঙ্গে নতুন কাঠামোর সব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও পুরোনো চাকরিজীবীদের প্রকৃত বেতন কত হবে, তা নির্ভর করবে তাঁদের বর্তমান বেতন ও ইনক্রিমেন্টের ওপর। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরই প্রত্যেক গ্রেডের সুনির্দিষ্ট বেতন-ভাতার হিসাব পাওয়া যাবে।




















