ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

‘পাপ কামিয়েছি, ধুয়েমুছে মরতে চাই’—ভাইরাল বক্তব্য নিয়ে যা বললেন পপি

বিনোদন প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, পপি নাকি বলেছেন, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’

তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন পপি। তাঁর দাবি, চলচ্চিত্রে অভিনয়কে তিনি কখনোই পাপ হিসেবে দেখেননি। বরং সিনেমা থেকে পেয়েছেন সম্মান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও দর্শকের অকুণ্ঠ ভালোবাসা।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পপি বলেন, “আমি কোথাও কিন্তু এই কথাটা বলিনি। বরং ফিল্ম করে আমি সুনাম, সম্মান, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার ইন্ডাস্ট্রির মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি।”

‘সিনেমা আমার কাছে সম্মানের জায়গা’

পপি বলেন, কোনো শিল্পীকে নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া মনগড়া বক্তব্য ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানি করা উচিত নয়।

তাঁর ভাষায়, “অন্ততপক্ষে একজন শিল্পীকে ভালো না বাসতে পারি, কিন্তু তাঁর সম্পর্কে বাজে কথা ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানি আমরা কেউ করতে পারি না। কারও এটা করার অধিকার নেই। যারা এ ধরনের কথা ছড়ায়, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।”

প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবন নিয়ে গর্বের কথাও জানান এই চিত্রনায়িকা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি বহু শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্জাক, আলমগীর, কবরী, শাবানা, ববিতাসহ অসংখ্য গুণী অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীর সঙ্গে কাজ করা তাঁর জীবনের বড় অর্জন।

“নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ব করি, আমি এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। এই ইন্ডাস্ট্রি আমার পরিবার,” বলেন পপি।

‘চলচ্চিত্রের আয় রক্ত পানি করা টাকা’

চলচ্চিত্রে কাজ করে উপার্জিত অর্থ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পপি। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রের মানুষের আয়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটা মানুষের ইনকাম আমি মনে করি রক্ত পানি করা টাকা, শতভাগ হালাল। অনেক কষ্ট করতে হয় একটা ছবি করতে গেলে। এখানকার প্রতিটা মানুষের ইনকামই হালাল—ভুল ব্যাখ্যা করার এখানে কোনো সুযোগই নেই।”

জয়ের পোস্ট, বাপ্পারাজের মন্তব্য

পপির নামে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, পপিও তা বললেন। এখন শাবনুর ও পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো।’

জয়ের ওই পোস্টে মন্তব্য করেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, “যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয়, আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।”

পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তিনি জানান, শিল্পীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেও তাঁদের অনুসরণ করে যারা ভুল করেছেন বলে মনে করেন, তাদের বিষয়টি নিয়েই তাঁর প্রশ্ন ছিল।

তবে নিজের নামে ছড়ানো বক্তব্য সত্য ধরে তাঁদের মন্তব্য করায় কষ্ট পেয়েছেন পপি।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, বাপ্পারাজ ও জয় ভাইয়ের মতো মানুষেরা আমি এ ধরনের কথা বলতে পারি, তা বিশ্বাস করেছেন! এমন কথাকে বিশ্বাস করে তাঁরা তাঁদের মতামত দিয়েছেন। আমি খুব কষ্ট পেলাম।”

‘অভিনয় করে পাপ কামিয়েছি—এ কথা বলিনি’

পপি স্পষ্টভাবে বলেন, সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পাপ কামিয়েছেন কিংবা সেই পাপ ধুয়েমুছে মরতে চান—এমন কোনো কথা তিনি বলেননি।

তাঁর ভাষায়, “আমি কোথাও বলিনি, সিনেমায় অভিনয় করে পাপ কামিয়েছি। আর সেসব পাপ এখন ধুয়েমুছে মরতে চাই। আমার নামে যা ছড়ানো হচ্ছে, এসব সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের একটা বক্তব্য আমার নামে যাঁরা ছড়িয়েছেন, তাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁরাই পাপ করেছেন।”

পরিবারের জন্য ত্যাগের কথাই বলেছিলেন

তবে অতীতে নিজের পরিবারকে ঘিরে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন বলে জানান পপি। তাঁর দাবি, সেই বক্তব্যকে বিকৃত করে এখন সিনেমা ও অভিনয় নিয়ে তাঁর অবস্থান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

পপি বলেন, “অভিনয় করতে গিয়ে কিছু অমানুষও লালনপালন করেছি। নিজের জন্য কিছু না করে পরিবারের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। সেটা আমার জন্য পাপ ছিল। পরিবারের প্রতি ক্ষোভ থেকে অনেক আগে কিছু কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই বক্তব্যকে এখন ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করে অপমানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সিনেমা ও অভিনয় অঙ্গন বরাবরই আমার কাছে সম্মানের ও শ্রদ্ধার জায়গা। সেই জায়গাকে কখনো আমি ছোট করতে পারব না।”

‘সিনেমা আমার পরিবার’

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ না করলেও সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান কখনো কমেনি বলে জানান পপি।

তিনি বলেন, “আমি এখন সিনেমায় কাজ করি না, ঠিক আছে। তার মানে আমাকে নিয়ে যা-তা বলা ঠিক হবে না। সিনেমা করছি না বলে আমার সমস্ত অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে? এত বছর যা অর্জন করেছি, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকবে।”

শিল্পীদের নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন শিল্পী দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তাই কোনো শিল্পী সম্পর্কে কিছু লেখার আগে তাঁর প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

সবশেষে পপি বলেন, “প্রায় তিন দশক সিনেমায় দিয়েছি। সিনেমা ভালো না বাসলে, সম্মান না পেলে তো কাজ করতে পারতাম না। মৃত্যুর আগপর্যন্ত সিনেমার মানুষদের নিয়ে আমার মুখ থেকে একটা বাজে শব্দ বের হবে না।”

বর্তমানে স্বামী-সন্তান ও সংসার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাস করছেন এই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলা ও অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত বলেই জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘পাপ কামিয়েছি, ধুয়েমুছে মরতে চাই’—ভাইরাল বক্তব্য নিয়ে যা বললেন পপি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, পপি নাকি বলেছেন, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’

তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন পপি। তাঁর দাবি, চলচ্চিত্রে অভিনয়কে তিনি কখনোই পাপ হিসেবে দেখেননি। বরং সিনেমা থেকে পেয়েছেন সম্মান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও দর্শকের অকুণ্ঠ ভালোবাসা।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পপি বলেন, “আমি কোথাও কিন্তু এই কথাটা বলিনি। বরং ফিল্ম করে আমি সুনাম, সম্মান, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার ইন্ডাস্ট্রির মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি।”

‘সিনেমা আমার কাছে সম্মানের জায়গা’

পপি বলেন, কোনো শিল্পীকে নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া মনগড়া বক্তব্য ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানি করা উচিত নয়।

তাঁর ভাষায়, “অন্ততপক্ষে একজন শিল্পীকে ভালো না বাসতে পারি, কিন্তু তাঁর সম্পর্কে বাজে কথা ছড়িয়ে তাঁর সম্মানহানি আমরা কেউ করতে পারি না। কারও এটা করার অধিকার নেই। যারা এ ধরনের কথা ছড়ায়, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।”

প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবন নিয়ে গর্বের কথাও জানান এই চিত্রনায়িকা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি বহু শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্জাক, আলমগীর, কবরী, শাবানা, ববিতাসহ অসংখ্য গুণী অভিনয়শিল্পী, পরিচালক ও কলাকুশলীর সঙ্গে কাজ করা তাঁর জীবনের বড় অর্জন।

“নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ব করি, আমি এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। এই ইন্ডাস্ট্রি আমার পরিবার,” বলেন পপি।

‘চলচ্চিত্রের আয় রক্ত পানি করা টাকা’

চলচ্চিত্রে কাজ করে উপার্জিত অর্থ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন পপি। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রের মানুষের আয়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটা মানুষের ইনকাম আমি মনে করি রক্ত পানি করা টাকা, শতভাগ হালাল। অনেক কষ্ট করতে হয় একটা ছবি করতে গেলে। এখানকার প্রতিটা মানুষের ইনকামই হালাল—ভুল ব্যাখ্যা করার এখানে কোনো সুযোগই নেই।”

জয়ের পোস্ট, বাপ্পারাজের মন্তব্য

পপির নামে ছড়িয়ে পড়া ওই বক্তব্যের ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘নায়িকা মৌসুমী যা বলেছিলেন, পপিও তা বললেন। এখন শাবনুর ও পূর্ণিমা একই কথা বললে একটা জেনারেশন পূর্ণ হতো।’

জয়ের ওই পোস্টে মন্তব্য করেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, “যখন ইনকাম করা হয়, তখন পাপ মনে হয় না। বেকার হয়ে গেলেই মনে হয়, আগে পাপ করেছি। ইবাদত সব সময়ের জন্যই, বেকারদের জন্য নয়।”

পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তিনি জানান, শিল্পীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেও তাঁদের অনুসরণ করে যারা ভুল করেছেন বলে মনে করেন, তাদের বিষয়টি নিয়েই তাঁর প্রশ্ন ছিল।

তবে নিজের নামে ছড়ানো বক্তব্য সত্য ধরে তাঁদের মন্তব্য করায় কষ্ট পেয়েছেন পপি।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, বাপ্পারাজ ও জয় ভাইয়ের মতো মানুষেরা আমি এ ধরনের কথা বলতে পারি, তা বিশ্বাস করেছেন! এমন কথাকে বিশ্বাস করে তাঁরা তাঁদের মতামত দিয়েছেন। আমি খুব কষ্ট পেলাম।”

‘অভিনয় করে পাপ কামিয়েছি—এ কথা বলিনি’

পপি স্পষ্টভাবে বলেন, সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পাপ কামিয়েছেন কিংবা সেই পাপ ধুয়েমুছে মরতে চান—এমন কোনো কথা তিনি বলেননি।

তাঁর ভাষায়, “আমি কোথাও বলিনি, সিনেমায় অভিনয় করে পাপ কামিয়েছি। আর সেসব পাপ এখন ধুয়েমুছে মরতে চাই। আমার নামে যা ছড়ানো হচ্ছে, এসব সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের একটা বক্তব্য আমার নামে যাঁরা ছড়িয়েছেন, তাঁরা অন্যায় করেছেন, তাঁরাই পাপ করেছেন।”

পরিবারের জন্য ত্যাগের কথাই বলেছিলেন

তবে অতীতে নিজের পরিবারকে ঘিরে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন বলে জানান পপি। তাঁর দাবি, সেই বক্তব্যকে বিকৃত করে এখন সিনেমা ও অভিনয় নিয়ে তাঁর অবস্থান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

পপি বলেন, “অভিনয় করতে গিয়ে কিছু অমানুষও লালনপালন করেছি। নিজের জন্য কিছু না করে পরিবারের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। সেটা আমার জন্য পাপ ছিল। পরিবারের প্রতি ক্ষোভ থেকে অনেক আগে কিছু কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই বক্তব্যকে এখন ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করে অপমানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সিনেমা ও অভিনয় অঙ্গন বরাবরই আমার কাছে সম্মানের ও শ্রদ্ধার জায়গা। সেই জায়গাকে কখনো আমি ছোট করতে পারব না।”

‘সিনেমা আমার পরিবার’

বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ না করলেও সিনেমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সম্মান কখনো কমেনি বলে জানান পপি।

তিনি বলেন, “আমি এখন সিনেমায় কাজ করি না, ঠিক আছে। তার মানে আমাকে নিয়ে যা-তা বলা ঠিক হবে না। সিনেমা করছি না বলে আমার সমস্ত অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে? এত বছর যা অর্জন করেছি, তা মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকবে।”

শিল্পীদের নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন শিল্পী দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তাই কোনো শিল্পী সম্পর্কে কিছু লেখার আগে তাঁর প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থান বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

সবশেষে পপি বলেন, “প্রায় তিন দশক সিনেমায় দিয়েছি। সিনেমা ভালো না বাসলে, সম্মান না পেলে তো কাজ করতে পারতাম না। মৃত্যুর আগপর্যন্ত সিনেমার মানুষদের নিয়ে আমার মুখ থেকে একটা বাজে শব্দ বের হবে না।”

বর্তমানে স্বামী-সন্তান ও সংসার নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাস করছেন এই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পথচলা ও অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত বলেই জানিয়েছেন।