বিএনপির ৪৮ বছরে ৪৮ অর্জনের তালিকা তুলে ধরলেন মাহদী আমিন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অর্জন ও সাফল্যের তালিকা ব্যাপক ও বিস্তৃত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি থেকে বিএনপির ৪৮ বছরের উল্লেখযোগ্য ৪৮টি অর্জনের তালিকা তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মাহদী আমিন এসব বিষয় উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতি এবং বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধারণ করে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি গতিশীল, প্রযুক্তিনির্ভর ও ভবিষ্যৎমুখী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের সর্বস্তরের জনগণ, দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তার দেওয়া তালিকায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনের প্রবর্তন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার প্রসার এবং স্বাধীন ও মর্যাদাভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি।
এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, ওআইসিতে সক্রিয় ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের সূচনা এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়গুলোও তিনি বিএনপির উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন।
তাঁর তালিকায় আরও রয়েছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, নতুন কুঁড়ি ও শিশুপার্ক প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকের প্রবর্তন, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও ভিডিপি গঠন, গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা।
মাহদী আমিনের মতে, বিএনপির রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, ভ্যাট চালু, এসিড অপরাধ দমন আইন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠন এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ, শ্রমিকবান্ধব আইন, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি, জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকেও তিনি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব সিএনজি চালু, দেশের প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণ, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বেসরকারি খাতে মোবাইল যোগাযোগ উন্মুক্ত করা এবং বিটিআরসি ও কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান সময়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে তারেক রহমানের রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, পুরোহিতসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী দেওয়ার বিষয়ও মাহদী আমিন বিএনপির অর্জনের তালিকায় স্থান দিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, বিএনপির দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও আত্মদান এবং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই দলটির রাজনৈতিক অভিযাত্রার সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়।



















