ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাপক হামের টিকাদান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের ভোট ২৯ অক্টোবর অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্টে গোয়েন্দা যাচাই অযৌক্তিক: হাইকোর্ট পুলিশে বড় রদবদল, বদলি-পদায়ন ছয় কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পিয়াসের শেষ বিদায়ে কাঁদল মালিপাড়া, বাবাহারা ছোট্ট মেয়ে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ জন বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া: বেকায়দায় নতুন সরকার প্রতি ইউনিয়ন ও উপজেলায় পশুচিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা শুনল ইউএনডিপি

দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু বাড়ে ৭ বছর? গবেষণার দাবির সত্যতা কতটা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চুম্বনের নানা উপকারিতার কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মানসিক চাপ কমানো থেকে শুরু করে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা—চুম্বনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণাও হয়েছে। তবে দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যায়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

গত শতকের আশির দশকে জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো এক গবেষণায় দাবি করেছিলেন, যেসব পুরুষ সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে চুমু দিতেন, তারা চুমু না দেওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি বাঁচতেন। সময়ের সঙ্গে সেই দাবিই নানা রূপে বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছর হয়েছে, আবার সাধারণ বিদায়ী চুমুর জায়গায় যোগ হয়েছে ‘দিনে ২২ মিনিট চুমু’র মতো দাবি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বনের উপকারিতা সরাসরি স্টপওয়াচে মেপে নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে আয়ু বৃদ্ধির হিসাব করার সুযোগ নেই। বরং ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চুম্বনের মাধ্যমে শরীরে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসরণ হতে পারে, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে সহায়ক।

গবেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ ও সুখী সম্পর্ক মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মানসিক চাপ কমা, ভালো ঘুম, ইতিবাচক মানসিক অবস্থা এবং পারস্পরিক যত্ন—এসব বিষয় দীর্ঘ ও সুখী জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চুম্বনের আরও কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার কথাও বলা হয়। এটি মানসিক চাপ কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্পর্কের আবেগী বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে পারে। চুম্বনের সময় লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের কিছু জীবাণুর সংস্পর্শও ঘটে। তবে একই সঙ্গে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, দিনে ঠিক ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যাবে—এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতা, আবেগী সংযোগ ও সুস্থ সম্পর্ক যে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

অর্থাৎ, আয়ু বাড়ানোর জন্য ঘড়ি ধরে ২২ মিনিট নয়—সম্পর্কে ভালোবাসা, যত্ন ও আন্তরিকতাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু বাড়ে ৭ বছর? গবেষণার দাবির সত্যতা কতটা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চুম্বনের নানা উপকারিতার কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মানসিক চাপ কমানো থেকে শুরু করে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা—চুম্বনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণাও হয়েছে। তবে দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যায়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

গত শতকের আশির দশকে জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো এক গবেষণায় দাবি করেছিলেন, যেসব পুরুষ সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে চুমু দিতেন, তারা চুমু না দেওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি বাঁচতেন। সময়ের সঙ্গে সেই দাবিই নানা রূপে বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছর হয়েছে, আবার সাধারণ বিদায়ী চুমুর জায়গায় যোগ হয়েছে ‘দিনে ২২ মিনিট চুমু’র মতো দাবি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বনের উপকারিতা সরাসরি স্টপওয়াচে মেপে নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে আয়ু বৃদ্ধির হিসাব করার সুযোগ নেই। বরং ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চুম্বনের মাধ্যমে শরীরে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসরণ হতে পারে, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে সহায়ক।

গবেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ ও সুখী সম্পর্ক মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মানসিক চাপ কমা, ভালো ঘুম, ইতিবাচক মানসিক অবস্থা এবং পারস্পরিক যত্ন—এসব বিষয় দীর্ঘ ও সুখী জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চুম্বনের আরও কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার কথাও বলা হয়। এটি মানসিক চাপ কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্পর্কের আবেগী বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে পারে। চুম্বনের সময় লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের কিছু জীবাণুর সংস্পর্শও ঘটে। তবে একই সঙ্গে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, দিনে ঠিক ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যাবে—এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতা, আবেগী সংযোগ ও সুস্থ সম্পর্ক যে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

অর্থাৎ, আয়ু বাড়ানোর জন্য ঘড়ি ধরে ২২ মিনিট নয়—সম্পর্কে ভালোবাসা, যত্ন ও আন্তরিকতাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।