ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রে ভোগান্তির ছায়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর নিষিদ্ধ, মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা না রাখার পরামর্শ কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেও বাণিজ্যে গতি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ! তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রশিবিরের জাতিসংঘ সফর শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী নাগরিকত্বের আগেই ভোটার তালিকায় নাম! সোনিয়ার বিরুদ্ধে ফের মামলা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন দায়িত্বে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সাবেক এসপিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু বাড়ে ৭ বছর? গবেষণার দাবির সত্যতা কতটা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চুম্বনের নানা উপকারিতার কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মানসিক চাপ কমানো থেকে শুরু করে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা—চুম্বনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণাও হয়েছে। তবে দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যায়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

গত শতকের আশির দশকে জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো এক গবেষণায় দাবি করেছিলেন, যেসব পুরুষ সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে চুমু দিতেন, তারা চুমু না দেওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি বাঁচতেন। সময়ের সঙ্গে সেই দাবিই নানা রূপে বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছর হয়েছে, আবার সাধারণ বিদায়ী চুমুর জায়গায় যোগ হয়েছে ‘দিনে ২২ মিনিট চুমু’র মতো দাবি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বনের উপকারিতা সরাসরি স্টপওয়াচে মেপে নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে আয়ু বৃদ্ধির হিসাব করার সুযোগ নেই। বরং ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চুম্বনের মাধ্যমে শরীরে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসরণ হতে পারে, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে সহায়ক।

গবেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ ও সুখী সম্পর্ক মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মানসিক চাপ কমা, ভালো ঘুম, ইতিবাচক মানসিক অবস্থা এবং পারস্পরিক যত্ন—এসব বিষয় দীর্ঘ ও সুখী জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চুম্বনের আরও কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার কথাও বলা হয়। এটি মানসিক চাপ কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্পর্কের আবেগী বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে পারে। চুম্বনের সময় লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের কিছু জীবাণুর সংস্পর্শও ঘটে। তবে একই সঙ্গে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, দিনে ঠিক ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যাবে—এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতা, আবেগী সংযোগ ও সুস্থ সম্পর্ক যে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

অর্থাৎ, আয়ু বাড়ানোর জন্য ঘড়ি ধরে ২২ মিনিট নয়—সম্পর্কে ভালোবাসা, যত্ন ও আন্তরিকতাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু বাড়ে ৭ বছর? গবেষণার দাবির সত্যতা কতটা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চুম্বনের নানা উপকারিতার কথা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মানসিক চাপ কমানো থেকে শুরু করে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা—চুম্বনের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণাও হয়েছে। তবে দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যায়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

গত শতকের আশির দশকে জার্মান মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো এক গবেষণায় দাবি করেছিলেন, যেসব পুরুষ সকালে কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে চুমু দিতেন, তারা চুমু না দেওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি বাঁচতেন। সময়ের সঙ্গে সেই দাবিই নানা রূপে বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও পাঁচ বছর বেড়ে সাত বছর হয়েছে, আবার সাধারণ বিদায়ী চুমুর জায়গায় যোগ হয়েছে ‘দিনে ২২ মিনিট চুমু’র মতো দাবি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চুম্বনের উপকারিতা সরাসরি স্টপওয়াচে মেপে নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে আয়ু বৃদ্ধির হিসাব করার সুযোগ নেই। বরং ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চুম্বনের মাধ্যমে শরীরে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসরণ হতে পারে, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে সহায়ক।

গবেষকদের মতে, ঘনিষ্ঠ ও সুখী সম্পর্ক মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মানসিক চাপ কমা, ভালো ঘুম, ইতিবাচক মানসিক অবস্থা এবং পারস্পরিক যত্ন—এসব বিষয় দীর্ঘ ও সুখী জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চুম্বনের আরও কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার কথাও বলা হয়। এটি মানসিক চাপ কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্পর্কের আবেগী বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে পারে। চুম্বনের সময় লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের কিছু জীবাণুর সংস্পর্শও ঘটে। তবে একই সঙ্গে সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, দিনে ঠিক ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু সাত বছর বেড়ে যাবে—এমন দাবির শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতা, আবেগী সংযোগ ও সুস্থ সম্পর্ক যে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

অর্থাৎ, আয়ু বাড়ানোর জন্য ঘড়ি ধরে ২২ মিনিট নয়—সম্পর্কে ভালোবাসা, যত্ন ও আন্তরিকতাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।