ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের জামিনে থাকা অবস্থায় নির্বাচনী জয়, রুখসার আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন বাংলাদেশে চালু হচ্ছে বিশ্বখ্যাত থাই কফি চেইন ‘ক্যাফে আমাজন’ আ ‘লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সম্ভবত আর শেখ হাসিনাকে রাখতে চায় না বাংলাদেশ আর কখনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করবে ​ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভর করে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পথে ভারত

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ‘অত্যন্ত ক্ষুব্ধ’। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ বিষয়ে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ঘটনাবলি, যেখানে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সরকার জানায়, বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না এবং দেশকে কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অনুগত বা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

একই সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

তবে সরকার অভিযোগ করে, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। বরং তাকে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও তা ক্ষতিকর বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ঘটনা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ‘অত্যন্ত ক্ষুব্ধ’। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ বিষয়ে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ঘটনাবলি, যেখানে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সরকার জানায়, বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না এবং দেশকে কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অনুগত বা নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

একই সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।

তবে সরকার অভিযোগ করে, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। বরং তাকে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও তা ক্ষতিকর বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।