আ ‘লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিণতি আদালতের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক মৃত্যু’ ঢাকায় হয়েছে এবং ‘দাফন’ হয়েছে দিল্লিতে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ‘৭১-এর চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে করতে এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আদালত।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দলটির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং বিচার নিশ্চিত করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই কার’—এ ধরনের বিতর্কে জড়ালে গণঅভ্যুত্থানের অর্জনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিভাজনের পরিবর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে থাকা গণ-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে অংশ নিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনীই একেকটি সংস্কার। তাই বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞ, সংবিধানবিদ এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে এমন একটি সংশোধনী আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন দেশের প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ধারাবাহিক আত্মত্যাগের ফল। তিনি বলেন, যখন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখনই রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে ওঠে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঐতিহাসিক সুযোগ বারবার আসে না। তাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে প্রত্যাশা ও গণরায় সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সবাইকে দায়ী হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















