ঢাকা ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদে আছড়ে পড়ছে স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট, কী ঘটবে এরপর?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী ৫ আগস্ট (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে) চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট। ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে সংঘটিত হতে যাওয়া এই আঘাতে চাঁদের পৃষ্ঠে ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীর একটি গহ্বর তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও এতে পৃথিবী বা চাঁদের তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে মহাকাশ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চাঁদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কেন চাঁদে আছড়ে পড়ছে রকেট?

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্পেসএক্স এই রকেট উৎক্ষেপণ করে দুটি বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডারকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। মিশন শেষ হওয়ার পর রকেটটির কাছে পৃথিবীতে ফিরে আসার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি ছিল না। দীর্ঘদিন মহাকাশে কক্ষপথ পরিবর্তন করতে করতে ঘোরার পর সেটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে আকৃষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত চাঁদের দিকে ধাবিত হয়।

কী দেখবেন বিজ্ঞানীরা?

এই সংঘর্ষকে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অতীতে বহু ধূমকেতু ও গ্রহাণু চাঁদে আঘাত হেনেছে, তবে সেগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছিল না।

রকেটটি আছড়ে পড়ার পর বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করবেন—

  • কীভাবে চাঁদের ধুলা (রেগোলিথ) ছড়িয়ে পড়ে।
  • কত বড় ও কত গভীর গর্ত তৈরি হয়।
  • সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।

চাঁদের মাটিতে দাগ কেন স্থায়ী?

চাঁদে পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে সেখানে একবার কোনো গর্ত বা চিহ্ন তৈরি হলে তা সহজে মুছে যায় না। প্রায় ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো অভিযানের সময় নভোচারীদের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন এখনও অক্ষত রয়েছে।

একইভাবে স্পেসএক্সের এই রকেটের আঘাতের চিহ্নও দীর্ঘ সময়, এমনকি হাজার বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা?

বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থা ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা কেন্দ্র ও স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে। এছাড়া চাঁদের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানেও আগ্রহ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—

  • সংঘর্ষে উড়ে যাওয়া ধুলা ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
  • চাঁদকে পর্যবেক্ষণকারী কক্ষপথের উপগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ধুলা অ্যাপোলো অভিযানের ঐতিহাসিক পদচিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের ক্ষতি করতে পারে।

আইন কী বলছে?

১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি (Outer Space Treaty) অনুযায়ী, পৃথিবীর কোনো দেশ চাঁদের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না।

তবে চুক্তিতে চাঁদের পরিবেশ সংরক্ষণ বা মহাকাশ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত কোনো বাধ্যতামূলক নীতিমালা নেই। ফলে কোনো দেশের মহাকাশযান বা রকেট চাঁদে আঘাত করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট দেশকেই বহন করতে হয়। স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

মহাকাশ-বর্জ্য কি বড় হুমকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে পরিত্যক্ত রকেট, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর বেশিরভাগই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে গেলেও কিছু অংশ দীর্ঘদিন কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এসব মহাকাশ-বর্জ্যের সঙ্গে কার্যকর উপগ্রহ বা মহাকাশযানের সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই মহাকাশ-বর্জ্য নিরাপদভাবে অপসারণ এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযান পরিচালনায় আন্তর্জাতিক নীতিমালা আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চাঁদে আছড়ে পড়ছে স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট, কী ঘটবে এরপর?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ৫ আগস্ট (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে) চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট। ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে সংঘটিত হতে যাওয়া এই আঘাতে চাঁদের পৃষ্ঠে ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীর একটি গহ্বর তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। যদিও এতে পৃথিবী বা চাঁদের তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে মহাকাশ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চাঁদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

কেন চাঁদে আছড়ে পড়ছে রকেট?

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্পেসএক্স এই রকেট উৎক্ষেপণ করে দুটি বাণিজ্যিক লুনার ল্যান্ডারকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। মিশন শেষ হওয়ার পর রকেটটির কাছে পৃথিবীতে ফিরে আসার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি ছিল না। দীর্ঘদিন মহাকাশে কক্ষপথ পরিবর্তন করতে করতে ঘোরার পর সেটি চাঁদের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে আকৃষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত চাঁদের দিকে ধাবিত হয়।

কী দেখবেন বিজ্ঞানীরা?

এই সংঘর্ষকে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অতীতে বহু ধূমকেতু ও গ্রহাণু চাঁদে আঘাত হেনেছে, তবে সেগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ ছিল না।

রকেটটি আছড়ে পড়ার পর বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করবেন—

  • কীভাবে চাঁদের ধুলা (রেগোলিথ) ছড়িয়ে পড়ে।
  • কত বড় ও কত গভীর গর্ত তৈরি হয়।
  • সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।

চাঁদের মাটিতে দাগ কেন স্থায়ী?

চাঁদে পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে সেখানে একবার কোনো গর্ত বা চিহ্ন তৈরি হলে তা সহজে মুছে যায় না। প্রায় ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো অভিযানের সময় নভোচারীদের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন এখনও অক্ষত রয়েছে।

একইভাবে স্পেসএক্সের এই রকেটের আঘাতের চিহ্নও দীর্ঘ সময়, এমনকি হাজার বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা?

বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থা ভবিষ্যতে চাঁদে গবেষণা কেন্দ্র ও স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছে। এছাড়া চাঁদের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানেও আগ্রহ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—

  • সংঘর্ষে উড়ে যাওয়া ধুলা ভবিষ্যৎ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
  • চাঁদকে পর্যবেক্ষণকারী কক্ষপথের উপগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত ধুলা অ্যাপোলো অভিযানের ঐতিহাসিক পদচিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের ক্ষতি করতে পারে।

আইন কী বলছে?

১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি (Outer Space Treaty) অনুযায়ী, পৃথিবীর কোনো দেশ চাঁদের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না।

তবে চুক্তিতে চাঁদের পরিবেশ সংরক্ষণ বা মহাকাশ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত কোনো বাধ্যতামূলক নীতিমালা নেই। ফলে কোনো দেশের মহাকাশযান বা রকেট চাঁদে আঘাত করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট দেশকেই বহন করতে হয়। স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

মহাকাশ-বর্জ্য কি বড় হুমকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে পরিত্যক্ত রকেট, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর বেশিরভাগই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে গেলেও কিছু অংশ দীর্ঘদিন কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এসব মহাকাশ-বর্জ্যের সঙ্গে কার্যকর উপগ্রহ বা মহাকাশযানের সংঘর্ষের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই মহাকাশ-বর্জ্য নিরাপদভাবে অপসারণ এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযান পরিচালনায় আন্তর্জাতিক নীতিমালা আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।