ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অন্তত ১০ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এ ছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও আগামী কয়েক দিনে বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, আগামী চার দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানের এই বৃষ্টির প্রভাবে দেশের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টিতে পানি বাড়ছে, ৬৯টিতে কমছে এবং ৫২টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে একটি স্টেশনেই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে—সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অন্তত ১০ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানির উচ্চতা আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এ ছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও আগামী কয়েক দিনে বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, আগামী চার দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানের এই বৃষ্টির প্রভাবে দেশের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টিতে পানি বাড়ছে, ৬৯টিতে কমছে এবং ৫২টি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে একটি স্টেশনেই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে—সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী।