ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় এমপির মেয়ের নাম, নড়াইলে আলোচনা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০২:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই তালিকায় দুই জায়গায় তার মেয়ের নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলেও সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, তাড়াহুড়ো করে তালিকা জমা দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) অনুদানসংক্রান্ত একটি অনুমোদনপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তালিকার কয়েকটি নাম ও উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় উপকারভোগীদের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।
তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামে দুই ব্যক্তির নাম রয়েছে। এর মধ্যে একজনের পিতার নাম ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যজনের পিতার নাম ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনের জন্যই ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, তারা সংসদ সদস্যের মেয়ে।
এ ছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জন সংসদ সদস্যের জন্মস্থান হবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জন তার শ্বশুরবাড়ির এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
শনিবার (২৭ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ভাইরাল হওয়া তালিকাটি সচিবালয়ে জমা দেওয়া তালিকাই। তার দাবি, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থের তালিকা তৈরির সময় তিনি নড়াইলে ছিলেন না।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সহকারী দ্রুত তালিকা জমা দেওয়ার কথা জানালে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলা হয়। পরে সময় স্বল্পতার কারণে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম দিয়ে তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়া হয়। এ কারণেই পরিচিতজন ও পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় চলে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, নিজের সন্তানের নামে অনুদান নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তার নেই। বর্তমানে ভাইরাল হওয়া তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণের ইচ্ছা নেই বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি. এম. রাহসিন কবির বলেন, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের সঙ্গে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই সচিবালয় থেকে অনুদান অনুমোদন হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত তালিকার ব্যক্তিদেরই অনুদান দিতে হবে। পরিবর্তন করতে হলে সচিবালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে, অনুদানের তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।


















