রায়পুরে মা-দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনির শিকার যুবকের মৃত্যু

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও এক মেয়ে আহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এছাড়া আহত হয়েছেন মেঝো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারক (১৭)। এবং গণপিটুনির শিকার হকার জহির হোসেন কে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বিকেলে ঘটনারস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো: আবু তারেক।
নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি চেষ্টা করছিলেন ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাট নিক্ষেপ করলে পুলিশের ৭ জন সদস্য আহত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছেন। সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করেন জহির হোসেন নামে এক যুবক। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এছাড়া তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয় পরে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুনেছি পথে সে মারা গেছে।
সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছে। তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে সে পথেই মারা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে ৭ জন সদস্য আহত হয়।



















