ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়াঘাটে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি ও প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়া

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও তৎকালীন এক অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রিয়াজুল নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, এ পদে যোগদানের সময় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ নথিতে জমা দেওয়া জন্মসনদে জন্মতারিখ উলে­খ করা হয় ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮২ ইং। তবে ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন সার্ভার অনুযায়ী তার প্রকৃত জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৭৫ ইং। সেই হিসাবে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৩৭ বছর ৭ মাস, যা বিধিবহির্ভ‚ত।

এছাড়া নিয়োগপত্রে তিনি কৃষ্ণরামপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশের একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তবে তদন্তে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসায় এ ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্রের রেকর্ড সংরক্ষিত নেই, যা কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

এত বড় অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো—এ প্রশ্নে বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আফজাল হোসেন জানান, “নিয়োগের সময় আমি এই উপজেলায় কর্মরত ছিলাম না। তবে আমার জানামতে, তৎকালীন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।”

তদন্তে আরও জানা যায়, বর্তমান শিক্ষা অফিসার রিয়াজুলের চাকরি নবায়ন করেছেন। তবে ভ‚য়া কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও কীভাবে তার চাকরি নবায়ন হলো—এ বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরি প্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও টাকা ও প্রভাব না থাকায় আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”

সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নিয়োগ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অতীতে যেসব নিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকৃত যোগ্যদের যথাযথ পদে নিয়োগ দেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘোড়াঘাটে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি ও প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়া

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী পদে বয়স জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও তৎকালীন এক অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রিয়াজুল নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগ বিধি অনুযায়ী, এ পদে যোগদানের সময় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ নথিতে জমা দেওয়া জন্মসনদে জন্মতারিখ উলে­খ করা হয় ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮২ ইং। তবে ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন সার্ভার অনুযায়ী তার প্রকৃত জন্মতারিখ ২ জুলাই ১৯৭৫ ইং। সেই হিসাবে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৩৭ বছর ৭ মাস, যা বিধিবহির্ভ‚ত।

এছাড়া নিয়োগপত্রে তিনি কৃষ্ণরামপুর ফাজিল মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশের একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। তবে তদন্তে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসায় এ ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্রের রেকর্ড সংরক্ষিত নেই, যা কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

এত বড় অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো—এ প্রশ্নে বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আফজাল হোসেন জানান, “নিয়োগের সময় আমি এই উপজেলায় কর্মরত ছিলাম না। তবে আমার জানামতে, তৎকালীন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।”

তদন্তে আরও জানা যায়, বর্তমান শিক্ষা অফিসার রিয়াজুলের চাকরি নবায়ন করেছেন। তবে ভ‚য়া কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও কীভাবে তার চাকরি নবায়ন হলো—এ বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরি প্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও টাকা ও প্রভাব না থাকায় আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।”

সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নিয়োগ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অতীতে যেসব নিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে সেগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকৃত যোগ্যদের যথাযথ পদে নিয়োগ দেওয়া হোক।