ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামী হত্যায় ফাঁসির দণ্ড, ১২ বছর কারাভোগের পর খালাস পেলেন শিউলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালেহা খাতুন শিউলি দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়েছেন। মামলার তদন্তে গুরুতর ত্রুটি, ফরেনসিক প্রমাণের ঘাটতি এবং কেবল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর নির্ভর করে সাজা দেওয়াকে আইনসঙ্গত মনে না করায় তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এর পক্ষে স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের অক্টোবরে ঢাকার পল্লবীতে অবসরপ্রাপ্ত বাহিনী সদস্য মহসিনকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সালেহা খাতুন শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, শিউলি ও তার দুই সহযোগী মিলে মহসিনকে হত্যা করেন এবং পরে তার শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গ কেটে ফেলেন।

তদন্ত শেষে শিউলির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় অনুমোদনের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্তের একাধিক দুর্বলতা তুলে ধরেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ভিকটিমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা যাচাইয়ে ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়নি। জব্দ করা এনার্জি ড্রিংকের বোতলও পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়নি। এছাড়া রক্তমাখা তোষক ও কথিত হত্যাস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।

রায়ে আরও বলা হয়, মামলায় সাতজন সাক্ষী থাকলেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। সাক্ষ্য-প্রমাণে অসঙ্গতি এবং স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড টেকসই নয়।

ফলে ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে শিউলির আপিল মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

দীর্ঘ এক যুগ কারাগারে কাটানোর পর আদালতের এ রায়ে শিউলির বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার অভিযোগ থেকে আইনি অবসান ঘটল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বামী হত্যায় ফাঁসির দণ্ড, ১২ বছর কারাভোগের পর খালাস পেলেন শিউলি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালেহা খাতুন শিউলি দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়েছেন। মামলার তদন্তে গুরুতর ত্রুটি, ফরেনসিক প্রমাণের ঘাটতি এবং কেবল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর নির্ভর করে সাজা দেওয়াকে আইনসঙ্গত মনে না করায় তাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এর পক্ষে স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের অক্টোবরে ঢাকার পল্লবীতে অবসরপ্রাপ্ত বাহিনী সদস্য মহসিনকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সালেহা খাতুন শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, শিউলি ও তার দুই সহযোগী মিলে মহসিনকে হত্যা করেন এবং পরে তার শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গ কেটে ফেলেন।

তদন্ত শেষে শিউলির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় অনুমোদনের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তদন্তের একাধিক দুর্বলতা তুলে ধরেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ভিকটিমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা যাচাইয়ে ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়নি। জব্দ করা এনার্জি ড্রিংকের বোতলও পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়নি। এছাড়া রক্তমাখা তোষক ও কথিত হত্যাস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।

রায়ে আরও বলা হয়, মামলায় সাতজন সাক্ষী থাকলেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। সাক্ষ্য-প্রমাণে অসঙ্গতি এবং স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড টেকসই নয়।

ফলে ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে শিউলির আপিল মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না থাকলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

দীর্ঘ এক যুগ কারাগারে কাটানোর পর আদালতের এ রায়ে শিউলির বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার অভিযোগ থেকে আইনি অবসান ঘটল।