রাজস্ব ঘাটতির চাপে উচ্চাভিলাষী বাজেট, আয় বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ধরে রাখতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত এ বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর বহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য ৯১ হাজার কোটি টাকা।
এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যের মধ্যে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানি খাতের শুল্ক ও কাস্টমস থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা।
সরকারের মতে, পরিচালন ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, করের অর্থ মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করা হয়। তাই কর অব্যাহতি ও কর ফাঁকির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নতুন কর আরোপের চেয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি কমানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।
এ বিষয়ে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কর ফাঁকি কমানো, অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় পুনর্বিবেচনা এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
তবে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে শুল্ক ও কর আদায়ে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
























