এমপির জন্য ফেরি ছাড়তে দুই ঘন্টা দেরি, যাত্রীদের ক্ষোভ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:২১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ঈদুল আযহার ছুটি শেষে কর্মস্থলগামী যাত্রীদের বহনকারী ফেরি নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা দাবি করেছেন, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের জন্য ফেরি আটকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেরিতে যাত্রীদের সঙ্গে সাংসদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
রোববার (৩১ মে) রাতে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে নোঙর (বন্ধ) করা অবস্থায় ফেরী মহানন্দাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরি মহানন্দা বিকেল সোয়া ৪টায় চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ছেড়ে এসে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছায়। সাধারণত আনলোড ও লোডিং কার্যক্রম শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেরিটির চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি রাত প্রায় পৌনে ৯টায় ঘাট ত্যাগ করে।
অভিযোগ রয়েছে, বিকেল থেকেই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের বুকিং নেওয়া হলেও ফেরি আনলোডের পর সেগুলো উঠতে দেওয়া হয়নি। এতে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা।
একাধিক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফেরি না ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা তাদের বলেন, এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ফেরি ছাড়বে। এক নারী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির জন্য যদি শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি দুঃখজনক। সময়মতো চেয়ারম্যান ঘাট, সোনাপুর বা মাইজদীতে পৌঁছাতে না পারলে অনেকের রাতের বাস মিস হওয়ার আশঙ্কাও ছিল।
ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, ফেরিটি ছাড়তে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য (ভিআইপি) এর জন্য এই বিলম্ব করাটা বিলম্বের মধ্যে পড়েনা। যাত্রীরা জানে তাদের সেন্টিমেন্ট এমন কেন। ঊনি একজন সংসদ সদস্য, ঊনার জন্য তাদের কতটুকু সেক্রিফাইস থাকা দরকার ছিল, তারা কতটুকু সেক্রিফাইস করেছে, সেটি হচ্ছে আমজনতার বিষয়। পরে এমপি আসলে জনতার উদ্দেশ্যে কথা বলেছে। ফেরির ভিতরে থাকায় আমি এমপির কথা শুনতে পাইনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার একাধিক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দাবি করেন, ফেরী ঘাটের অনিয়মের বিষয়ে তিনি ঘাট পরিদর্শনে গেছেন। একটি পক্ষ এই বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন।



















