অভিযোগের পাহাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা ড. গোলজারে নবী, অনুসন্ধানে নতুন তথ্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. গোলজারে নবীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের চার পর্বের প্রথম পর্ব আজ প্রকাশিত হলো।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল, যা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরেও আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কিছু আর্থিক লেনদেন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, ব্যাংক খাতের কিছু সিদ্ধান্ত, নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পাশাপাশি কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওই কর্মকর্তাকে ঘিরে সম্প্রতি এক সমঝোতা চুক্তির তথ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত সমঝোতা পত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. গোলজারে নবীর নাম উল্লেখ করে একটি আর্থিক চুক্তির তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্বিগুণ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি একটি সমঝোতা চুক্তির নথি সামনে আসার পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নথিতে ড. গোলজারে নবীর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১ কোটি টাকা গ্রহণের বিপরীতে ১৪ মাসের মধ্যে ৪২ কোটি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অর্থাৎ মূল অর্থের দ্বিগুণ ফেরত দেওয়ার শর্ত উল্লেখ রয়েছে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে শতভাগ মুনাফা বা দ্বিগুণ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি সাধারণ ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে চুক্তিটির প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে বিনিয়োগের খাত বা প্রত্যাশিত মুনাফার উৎস সম্পর্কে সেখানে স্পষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
আরও অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির পর তিনি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে কয়েকটি স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেছেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট ছয়টি চেক আগাম স্বাক্ষর করে দেওয়ার তথ্যও আলোচনায় এসেছে। ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আর্থিক ঝুঁকি ও অপব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ড. গোলজারে নবী সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এটি স্বাক্ষরিত কলেও কার্যকর হয়নি। চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়।
ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে ব্ল্যাংক চেক দেয়ার কথা স্বীকার বলেন, চেকগুলো আসল নয়, ফটোকপি দেওয়া হয়েছিলো।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ড. গোলজারে নবী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হলে বিষয়টি বড় ধরনের তদন্তের দিকে গড়াতে পারে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থানের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে অনুসন্ধান বা তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদমর্যাদা বিবেচনা না করেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















