তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ, করমজল থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং বন্য ও জলজ প্রাণীর প্রজনন সুরক্ষায় আজ সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবৎ থাকা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী এবং পর্যটকরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর জুন-আগস্ট সময়ে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এ সময়ে মানুষের প্রবেশ সীমিত থাকায় বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়।
তবে এবার ব্যতিক্রম হিসেবে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হবে। ফলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও পর্যটকরা করমজল এলাকায় ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুন্দরবননির্ভর জেলে ও বনজীবীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ তিন মাস বন বন্ধ থাকায় জীবিকার প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায় এবং অনেক পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।
শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশীদ বলেন, সুন্দরবনই তাদের জীবিকার প্রধান ভরসা। বন বন্ধ থাকলে আয়-রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি সহায়তা সবার কাছে পৌঁছায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করে জেলে মাসুম হাওলাদার বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের কাছে পৌঁছালে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসত।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, বানর ও গুইসাপসহ ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী, ২৯০ প্রজাতির পাখি এবং ৩৪৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রজাতি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের অতিরিক্ত উপস্থিতি, বনজ সম্পদ আহরণ এবং চোরা শিকারিদের তৎপরতায় বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রজনন মৌসুমে বনকে বিশ্রাম দেওয়ার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়টি অধিকাংশ বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর প্রজনন মৌসুম। একই সময়ে বনে নতুন চারা গজানোর হারও বৃদ্ধি পায়। এ কারণে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই সময় মানুষের উপস্থিতি কম থাকলে প্রাণীকুল নির্বিঘ্নে বিচরণ ও প্রজননের সুযোগ পায়, যা সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
বন বিভাগের আশা, এ উদ্যোগের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সুরক্ষা আরও জোরদার হবে।










