ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদ শেষে কর্মব্যস্ত ঢাকায় ফিরছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী ঢাকা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া মানুষজন ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। এতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা যাচ্ছে ফিরতি যাত্রার ব্যস্ততা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে রোববার (৩১ মে)। আগামী সোমবার (১ জুন) থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানীমুখী মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।

রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরতি যাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা পরিবহন সংকটের চিত্র দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফিরতি যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল।

বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরছেন অনেকে। সদরঘাটে আসা যাত্রীরা জানান, নদীপথে যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ না থাকায় স্বস্তিতেই রাজধানীতে ফিরতে পেরেছেন তারা। অধিকাংশ লঞ্চও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ঈদের সময় কর্মব্যস্ততার কারণে যারা বাড়ি যেতে পারেননি, তাদের অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুইমুখী যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীচাপ স্বাভাবিক ছিল। কাউন্টারগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি। যাত্রীরা সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

যাত্রীদের ভাষ্য, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের অবকাশ উপভোগ করেন।

সোমবার থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে খোলা থাকা ব্যাংকগুলোও এদিন থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে লেনদেন পরিচালনা করবে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে।

এদিকে দীর্ঘ ছুটিতে অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত। ধীরে ধীরে ফিরছে নগরজীবনের চিরচেনা ব্যস্ততা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে রাজধানীতে ফেরত আসা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। কর্মজীবী মানুষের পূর্ণ উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ঢাকা আবারও তার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদ শেষে কর্মব্যস্ত ঢাকায় ফিরছে মানুষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী ঢাকা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া মানুষজন ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। এতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দেখা যাচ্ছে ফিরতি যাত্রার ব্যস্ততা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে রোববার (৩১ মে)। আগামী সোমবার (১ জুন) থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানীমুখী মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।

রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথ গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরতি যাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা পরিবহন সংকটের চিত্র দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফিরতি যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল।

বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরছেন অনেকে। সদরঘাটে আসা যাত্রীরা জানান, নদীপথে যাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ না থাকায় স্বস্তিতেই রাজধানীতে ফিরতে পেরেছেন তারা। অধিকাংশ লঞ্চও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গন্তব্যে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ঈদের সময় কর্মব্যস্ততার কারণে যারা বাড়ি যেতে পারেননি, তাদের অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুইমুখী যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীচাপ স্বাভাবিক ছিল। কাউন্টারগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি। যাত্রীরা সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

যাত্রীদের ভাষ্য, ফাঁকা সড়ক, স্বাভাবিক যান চলাচল এবং পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার কারণে এবারের ঢাকা ফেরা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে।

এ বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের অবকাশ উপভোগ করেন।

সোমবার থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজারে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। ঈদের আগে সীমিত পরিসরে খোলা থাকা ব্যাংকগুলোও এদিন থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে লেনদেন পরিচালনা করবে। একইসঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও নিয়মিত লেনদেন শুরু হবে।

এদিকে দীর্ঘ ছুটিতে অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত। ধীরে ধীরে ফিরছে নগরজীবনের চিরচেনা ব্যস্ততা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে রাজধানীতে ফেরত আসা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে। কর্মজীবী মানুষের পূর্ণ উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ঢাকা আবারও তার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে।