ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, দুই সিটির দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক শরণখোলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতার মৃত্যু রাজধানীর বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গাড়ি চালিয়ে ঘুরলেন প্রধানমন্ত্রী চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও টাঙ্গাইল শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে মাঠে প্রতিমন্ত্রী টুকু মুষলধারে বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি রাজশাহীতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হাজার ছাড়াল

চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও

আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। বিশেষ করে ছাগলের চামড়ার এমন দুরবস্থা যে, একটি চামড়া বিক্রি করেও রিকশা ভাড়ার ২০ টাকা জোটে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ফুলবাড়ী পৌর শহরের নিমতলা মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চামড়া বিক্রির জন্য ভিড় করছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ছাগলের চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দিচ্ছেন নদীতে বা ডাস্টবিনে।

স্থানীয় বাজারে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার দাম মিলছে ৫ থেকে ১০ টাকা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোরবানিদাতারা।

সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে একটি মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ১৩০০ থেকে ১৮৫০ টাকার মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে সেই দামের কাছাকাছিও পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

চামড়া বিক্রি করতে আসা তারেক রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। একটি গরুর চামড়া বিক্রি করেছি, কিন্তু ছাগলের চামড়ার কোনো দাম না থাকায় ফেলে দিতে হয়েছে।”

আরেক কোরবানিদাতা বাদশা হোসেন বলেন, “একসময় দেশের চামড়া বিদেশে রপ্তানি হতো, দামও ভালো পাওয়া যেত। এখন পুরো শিল্পটাই ধ্বংসের পথে।”

প্রতিবছর কোরবানির ঈদে মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে পরিচালন ব্যয় মেটায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানও আর্থিক সংকটে পড়ছে।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী কোরবান আলী বলেন, ট্যানারি মালিকরা সরকারি দামে চামড়া কিনছেন না বলেই মাঠপর্যায়ে কম দামে কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, লবণের দাম বাড়ায় একটি গরুর চামড়া সংরক্ষণ করতেই ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, “গত বছরের চামড়ার টাকাই এখনো পাইনি। ট্যানারি মালিকরা মাসের পর মাস টাকা আটকে রাখেন। এভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।”

ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের ট্যানারিগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় কোরবানির সময় অনেক বেশি চামড়া বাজারে আসে। ফলে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তারা চামড়া রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চামড়ার বাজারে ধস, ছাগলের চামড়ায় মিলছে না রিকশা ভাড়াও

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। বিশেষ করে ছাগলের চামড়ার এমন দুরবস্থা যে, একটি চামড়া বিক্রি করেও রিকশা ভাড়ার ২০ টাকা জোটে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ফুলবাড়ী পৌর শহরের নিমতলা মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চামড়া বিক্রির জন্য ভিড় করছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ছাগলের চামড়া বিক্রি না করে ফেলে দিচ্ছেন নদীতে বা ডাস্টবিনে।

স্থানীয় বাজারে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার দাম মিলছে ৫ থেকে ১০ টাকা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোরবানিদাতারা।

সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে একটি মাঝারি গরুর চামড়ার মূল্য হওয়ার কথা ১৩০০ থেকে ১৮৫০ টাকার মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে সেই দামের কাছাকাছিও পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

চামড়া বিক্রি করতে আসা তারেক রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, “সরকার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। একটি গরুর চামড়া বিক্রি করেছি, কিন্তু ছাগলের চামড়ার কোনো দাম না থাকায় ফেলে দিতে হয়েছে।”

আরেক কোরবানিদাতা বাদশা হোসেন বলেন, “একসময় দেশের চামড়া বিদেশে রপ্তানি হতো, দামও ভালো পাওয়া যেত। এখন পুরো শিল্পটাই ধ্বংসের পথে।”

প্রতিবছর কোরবানির ঈদে মাদরাসা ও এতিমখানাগুলো চামড়া সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে পরিচালন ব্যয় মেটায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানও আর্থিক সংকটে পড়ছে।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী কোরবান আলী বলেন, ট্যানারি মালিকরা সরকারি দামে চামড়া কিনছেন না বলেই মাঠপর্যায়ে কম দামে কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, লবণের দাম বাড়ায় একটি গরুর চামড়া সংরক্ষণ করতেই ২০০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম বলেন, “গত বছরের চামড়ার টাকাই এখনো পাইনি। ট্যানারি মালিকরা মাসের পর মাস টাকা আটকে রাখেন। এভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।”

ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের ট্যানারিগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় কোরবানির সময় অনেক বেশি চামড়া বাজারে আসে। ফলে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তারা চামড়া রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।