ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুপালি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থালাপতি বিজয়

সমরেশ রায়, কলকাতা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পর্দায় যিনি বছরের পর বছর নায়ক হয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, এবার সেই থালাপতি বিজয়কে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আলোচনা। সিনেমার সংলাপ, নাচ কিংবা অ্যাকশনের বাইরেও এখন তাকে দেখা যাচ্ছে জনসভা, রাজনৈতিক কৌশল আর নেতৃত্বের আলোচনায়।

দীর্ঘদিন ধরেই তামিল রাজনীতিতে তার প্রবেশ নিয়ে জল্পনা ছিল। ভক্তদের বিশাল জনসমর্থন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের কারণে অনেকেই মনে করতেন—একদিন না একদিন রাজনীতির মূল মঞ্চে আসবেন তিনি। অবশেষে সেই পথেই হাঁটলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ। তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ তার প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। সিনেমার ‘জনদরদি নায়ক’ ইমেজকে এবার বাস্তব রাজনীতিতেও কাজে লাগাতে চান বিজয়।

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা সি জোসেফ ‘থলপতি’ বিজয়। রোববার (১০ মে) সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তামিলনাড়ুর রাজভবন।

শনিবার সন্ধ্যায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার পর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ অরলেকরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। পরে রাজভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।

২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে) পেয়েছে ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে ও আইইউএমএলসহ কয়েকটি দল সমর্থন দেওয়ায় টিভিকের সমর্থন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২০-এ।

ভিসিকে প্রধান থল তিরুমাভালাভন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রপতির শাসনের সম্ভাবনা এড়াতেই তারা বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে বিজয়ের সঙ্গে কংগ্রেস, সিপিএমসহ সমর্থনকারী দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট পেয়েছে ৭৪টি আসন এবং এডিএমকে-বিজেপি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। পরে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো ডিএমকের সঙ্গে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তারকাদের প্রভাব নতুন কিছু নয়। এমজিআর, জয়ললিতা থেকে শুরু করে বহু অভিনেতাই রাজনীতিতে সফল হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় থালাপতি বিজয়ের উত্থানকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তার সমর্থকদের ভাষায়, বিজয় শুধু একজন অভিনেতা নন—তিনি পরিবর্তনের প্রতীক। দুর্নীতি, বেকারত্ব ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তার অবস্থান তরুণদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, জনপ্রিয়তা আর রাজনৈতিক দক্ষতা এক বিষয় নয়। সিনেমার সাফল্যকে বাস্তব প্রশাসনে রূপ দিতে হলে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রুপালি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে থালাপতি বিজয়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পর্দায় যিনি বছরের পর বছর নায়ক হয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, এবার সেই থালাপতি বিজয়কে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আলোচনা। সিনেমার সংলাপ, নাচ কিংবা অ্যাকশনের বাইরেও এখন তাকে দেখা যাচ্ছে জনসভা, রাজনৈতিক কৌশল আর নেতৃত্বের আলোচনায়।

দীর্ঘদিন ধরেই তামিল রাজনীতিতে তার প্রবেশ নিয়ে জল্পনা ছিল। ভক্তদের বিশাল জনসমর্থন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের কারণে অনেকেই মনে করতেন—একদিন না একদিন রাজনীতির মূল মঞ্চে আসবেন তিনি। অবশেষে সেই পথেই হাঁটলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ। তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ তার প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে। সিনেমার ‘জনদরদি নায়ক’ ইমেজকে এবার বাস্তব রাজনীতিতেও কাজে লাগাতে চান বিজয়।

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা সি জোসেফ ‘থলপতি’ বিজয়। রোববার (১০ মে) সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তামিলনাড়ুর রাজভবন।

শনিবার সন্ধ্যায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করার পর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ অরলেকরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। পরে রাজভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।

২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে) পেয়েছে ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে ও আইইউএমএলসহ কয়েকটি দল সমর্থন দেওয়ায় টিভিকের সমর্থন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২০-এ।

ভিসিকে প্রধান থল তিরুমাভালাভন জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রপতির শাসনের সম্ভাবনা এড়াতেই তারা বিজয়ের দলকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে বিজয়ের সঙ্গে কংগ্রেস, সিপিএমসহ সমর্থনকারী দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট পেয়েছে ৭৪টি আসন এবং এডিএমকে-বিজেপি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। পরে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো ডিএমকের সঙ্গে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তারকাদের প্রভাব নতুন কিছু নয়। এমজিআর, জয়ললিতা থেকে শুরু করে বহু অভিনেতাই রাজনীতিতে সফল হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় থালাপতি বিজয়ের উত্থানকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তার সমর্থকদের ভাষায়, বিজয় শুধু একজন অভিনেতা নন—তিনি পরিবর্তনের প্রতীক। দুর্নীতি, বেকারত্ব ও সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তার অবস্থান তরুণদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

তবে সমালোচকদের একাংশ বলছেন, জনপ্রিয়তা আর রাজনৈতিক দক্ষতা এক বিষয় নয়। সিনেমার সাফল্যকে বাস্তব প্রশাসনে রূপ দিতে হলে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।