ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের মাঝেই ইরানে কোন্দল! পদচ্যুত হতে পারেন বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান-এর শীর্ষ নেতৃত্বে মতবিরোধের গুঞ্জন উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান-এর অসন্তোষের মুখে পড়েছেন।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে সরকারের ভেতরে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আরাঘাচির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তাকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।

একই সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ-এর বিরুদ্ধেও অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির উপর যারপরনাই অসন্তুষ্ট। শোনা যাচ্ছে এই অসন্তোষের কারণ হল, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার এবং কূটনৈতিক দিক থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করেন বিদেশমন্ত্রী। শুধু তাই নয় আরাঘাচি সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান আহমেদ ভাহিদির নির্দেশে কাজ করেছেন। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত দু’সপ্তাহ ধরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরাঘাচি গোপন করেছেন প্রেসিডেন্টের কাছে। বহু তথ্য তাঁকে দেওয়া হয়নি।

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় আরাঘাচির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পেজেস্কিয়ান নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশমন্ত্রী যদি সরকারি নীতি লঙ্ঘন করেন সেক্ষেত্রে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। একই অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি বৈঠকের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা ইরানের প্রতিনিধি দলের শীর্ষে থাকা স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের বিরুদ্ধেও।

অবশ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোন্দল এই প্রথমবার নয়।সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দায়িত্ব দেওয়া হয় মোজতবা খামেনেইকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান ও আইআরজিসির প্রধান আহমেদ ভাহিদির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। একাধিক বিষয়ে একমত হতে পারেননি এই দুই শীর্ষ নেতা। এবার দেশের বিদেশমন্ত্রীর উপর প্রেসিডেন্টের এই অসন্তোষ নানা জল্পনা উসকে দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যুদ্ধের মাঝেই ইরানে কোন্দল! পদচ্যুত হতে পারেন বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৯:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ইরান-এর শীর্ষ নেতৃত্বে মতবিরোধের গুঞ্জন উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান-এর অসন্তোষের মুখে পড়েছেন।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে সরকারের ভেতরে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আরাঘাচির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তাকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে।

একই সঙ্গে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ-এর বিরুদ্ধেও অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান বিদেশমন্ত্রী আরাঘাচির উপর যারপরনাই অসন্তুষ্ট। শোনা যাচ্ছে এই অসন্তোষের কারণ হল, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার এবং কূটনৈতিক দিক থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করেন বিদেশমন্ত্রী। শুধু তাই নয় আরাঘাচি সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান আহমেদ ভাহিদির নির্দেশে কাজ করেছেন। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গত দু’সপ্তাহ ধরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরাঘাচি গোপন করেছেন প্রেসিডেন্টের কাছে। বহু তথ্য তাঁকে দেওয়া হয়নি।

আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় আরাঘাচির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পেজেস্কিয়ান নাকি তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশমন্ত্রী যদি সরকারি নীতি লঙ্ঘন করেন সেক্ষেত্রে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে। একই অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি বৈঠকের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা ইরানের প্রতিনিধি দলের শীর্ষে থাকা স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের বিরুদ্ধেও।

অবশ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোন্দল এই প্রথমবার নয়।সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দায়িত্ব দেওয়া হয় মোজতবা খামেনেইকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান ও আইআরজিসির প্রধান আহমেদ ভাহিদির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। একাধিক বিষয়ে একমত হতে পারেননি এই দুই শীর্ষ নেতা। এবার দেশের বিদেশমন্ত্রীর উপর প্রেসিডেন্টের এই অসন্তোষ নানা জল্পনা উসকে দিচ্ছে।