ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মে দিবসে বঞ্চনার কথা বলছে নারী শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মে দিবসেও ভালো নেই দেশের নারী শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হলেও বাস্তবে এখনো বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তারা।

শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস, কৃষি এবং গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা প্রতিদিনই কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নানা ধরনের বৈষম্যের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করেও তারা তুলনামূলকভাবে কম পারিশ্রমিক পান, অথচ কাজের চাপ থাকে সমান বা কখনো বেশি।

নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, অধিকাংশ কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবা নেই। দীর্ঘ সময় কাজ করেও অনেকেই যথাযথ ওভারটাইম ভাতা পান না। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগও রয়েছে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী শ্রমিকদের মধ্যে এ চিত্র আরও স্পষ্ট। ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকলেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় নারী শ্রমিকরা জানান, ধান লাগানো, ধান কাটা, মাড়াই, মাটি কাটা, হোটেল, রাইস মিল, চাতাল, ইটভাটা, জুট মিল, পাথর ভাঙা ও নির্মাণসহ নানা ভারী কাজ করেও তারা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম মজুরি পান। পুরুষ শ্রমিক যেখানে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পান, সেখানে নারী শ্রমিকরা পান মাত্র ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।

আলবেদা বেগম ও রুপিয়া বেওয়ার মতো নারী শ্রমিকরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রতিবাদ করলে কাজ হারানোর আশঙ্কাও থাকে।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, এ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার নারী শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। এদের একটি বড় অংশ কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কাজে যুক্ত থাকলেও অনেকেই এখনো শ্রম আইনের পূর্ণ সুরক্ষার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করেন, নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা না গেলে তাদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মে দিবসে বঞ্চনার কথা বলছে নারী শ্রমিকরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

মে দিবসেও ভালো নেই দেশের নারী শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হলেও বাস্তবে এখনো বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন তারা।

শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস, কৃষি এবং গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা প্রতিদিনই কম মজুরি, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নানা ধরনের বৈষম্যের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করেও তারা তুলনামূলকভাবে কম পারিশ্রমিক পান, অথচ কাজের চাপ থাকে সমান বা কখনো বেশি।

নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, অধিকাংশ কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবা নেই। দীর্ঘ সময় কাজ করেও অনেকেই যথাযথ ওভারটাইম ভাতা পান না। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগও রয়েছে।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী শ্রমিকদের মধ্যে এ চিত্র আরও স্পষ্ট। ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকলেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় নারী শ্রমিকরা জানান, ধান লাগানো, ধান কাটা, মাড়াই, মাটি কাটা, হোটেল, রাইস মিল, চাতাল, ইটভাটা, জুট মিল, পাথর ভাঙা ও নির্মাণসহ নানা ভারী কাজ করেও তারা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম মজুরি পান। পুরুষ শ্রমিক যেখানে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পান, সেখানে নারী শ্রমিকরা পান মাত্র ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা।

আলবেদা বেগম ও রুপিয়া বেওয়ার মতো নারী শ্রমিকরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রতিবাদ করলে কাজ হারানোর আশঙ্কাও থাকে।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, এ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার নারী শ্রমিক বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। এদের একটি বড় অংশ কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কাজে যুক্ত থাকলেও অনেকেই এখনো শ্রম আইনের পূর্ণ সুরক্ষার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয়রা মনে করেন, নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা না গেলে তাদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তারা শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।