গরু ছাড়াই দুধ! পাবনায় ভেজাল কারবারে চাঞ্চল্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
পাবনায় এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে গরু ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছিল দুধ। প্রশাসনের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে—রাসায়নিক ও বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল এই নকল দুধ।
সাম্প্রতিক সময়ে Pabna District-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। এসব উপকরণের মধ্যে ছিল গ্লুকোজ, গ্লিসারিন, জেলি ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ।
তদন্তে জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা আসল দুধের ননি (চর্বি) তুলে নিয়ে পানি, তেল এবং রাসায়নিক মিশিয়ে আবার দুধের মতো করে তৈরি করতেন। কখনো কখনো পুরোপুরি কৃত্রিম উপায়ে—ডিটারজেন্ট, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করেও ‘দুধ’ বানানো হচ্ছিল।
এমনকি গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে তৈরি এই নকল দুধ বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য, এসব ভেজাল দুধ মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযানে কারখানা ধ্বংস, জরিমানা ও কারাদণ্ডের মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।
তবুও আশঙ্কার বিষয় হলো—অভিযান চললেও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না এই চক্র। দুধ উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো খাতই ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনা শুধু ভেজাল নয়—মানুষের খাবারে সরাসরি বিষ মেশানোর মতো অপরাধ। তাই সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের বিপজ্জনক কারবার বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরের সরদারপাড়ায় অবস্থিত জনতা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান। অভিযানে ৬০০ লিটার গ্লুকোজ জেলি, ৫০ লিটার সরবিটল ও ২০০ লিটার গ্লিসারিন জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়।
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান জানান, যে ব্যক্তির নামে জব্দকৃত কেমিক্যালগুলো ভাঙ্গুড়ায় আনা হয়েছিল, তাকে এর আগে নকল দুধ তৈরির অপরাধে জরিমানা করা হয়েছিল। ঘটনার পর ওই ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, জব্দকৃত কেমিক্যালগুলো নকল দুধ তৈরির উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছিল। ধ্বংস করা কেমিক্যালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।



















