ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের দামে আগুন: মুরগি, তেল, গ্যাসে চাপে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, এলপিজি ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ছে প্রায় সবখানেই।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুরগির বাজারে। সোনালি মুরগি এখন কেজিপ্রতি ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। এর প্রভাব পড়েছে গরুর মাংসের বাজারেও—কেজি ৮০০ টাকার নিচে মিলছে না।

ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল অনেক কম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা হলেও বাজারে তা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনির দামও বেড়েছে। ঈদের আগে যেখানে কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ১০৫ টাকায় পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসে। ১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ১,৭২৮ টাকা, যদিও বাজারে অনেক ক্ষেত্রে তা ২ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক সবজি এখন ১০০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও মৌসুম শেষের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে। তবে বাস্তব বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে এই তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার তদারকি কম থাকায় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া ভলান্টারি কনজিউমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটি-এর নির্বাহী পরিচালক খলিলুর রহমান সজল বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে এলপিজি ও মুরগির বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি ভোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

সার্বিকভাবে, বাজারে নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিত্যপণ্যের দামে আগুন: মুরগি, তেল, গ্যাসে চাপে সাধারণ মানুষ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, এলপিজি ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ছে প্রায় সবখানেই।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুরগির বাজারে। সোনালি মুরগি এখন কেজিপ্রতি ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ২৭০ থেকে ৩২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। এর প্রভাব পড়েছে গরুর মাংসের বাজারেও—কেজি ৮০০ টাকার নিচে মিলছে না।

ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও ছিল অনেক কম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা হলেও বাজারে তা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনির দামও বেড়েছে। ঈদের আগে যেখানে কেজিপ্রতি ৯৫ থেকে ১০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ১০৫ টাকায় পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসে। ১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ১,৭২৮ টাকা, যদিও বাজারে অনেক ক্ষেত্রে তা ২ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক সবজি এখন ১০০ টাকার আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বৃষ্টি ও মৌসুম শেষের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে। তবে বাস্তব বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে এই তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার তদারকি কম থাকায় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া ভলান্টারি কনজিউমারস ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটি-এর নির্বাহী পরিচালক খলিলুর রহমান সজল বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। বিশেষ করে এলপিজি ও মুরগির বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি ভোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

সার্বিকভাবে, বাজারে নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।