ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও ঐতিহ্যের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে এবং পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

আগামীকাল ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ নববর্ষের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।

তিনি আরও বলেন, বৈশাখি মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যবোধকে শক্তিশালী করে। নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে, যেখানে প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশাবাদ মিলেমিশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি নববর্ষের প্রথম দিন থেকে চালু হয়েছে, যা কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান বিশ্বে সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি নববর্ষে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও ঐতিহ্যের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে এবং পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

আগামীকাল ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ নববর্ষের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।

তিনি আরও বলেন, বৈশাখি মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যবোধকে শক্তিশালী করে। নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে, যেখানে প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশাবাদ মিলেমিশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি নববর্ষের প্রথম দিন থেকে চালু হয়েছে, যা কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান বিশ্বে সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি নববর্ষে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীর জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।