বাংলা নববর্ষ: জাগুক সম্প্রীতি, ফিরুক প্রাণের উচ্ছ্বাস
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
সময়ের আবর্তনে আবারও এসেছে পহেলা বৈশাখ। নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ এবার এসেছে অনেকটাই স্বাভাবিক আবহে। গত বছর যে উৎসব আয়োজন ম্লান হয়ে পড়েছিল, এবার তা ফিরে পেয়েছে পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য। বাঙালির সর্বজনীন এই উৎসব আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে নগর থেকে গ্রাম—সবখানে।
রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনও ফিরে এসেছে নিজস্ব মহিমায়। ১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজও বহমান। ১৯৭১ সালের অস্থিরতা কিংবা ২০০১ সালের জঙ্গি হামলাও এর ধারাবাহিকতা থামাতে পারেনি; কেবল করোনার কারণে সাময়িক বিরতি এসেছিল। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রাও এবার আবারও চেনা রূপে উদযাপিত হচ্ছে। দেশের নানা প্রান্তে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং লোকজ উৎসবে ফুটে উঠছে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি।
পহেলা বৈশাখ কেবল সংস্কৃতির উৎসব নয়, অর্থনীতির সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একসময় খাজনা আদায়ের আনুষ্ঠানিকতা থেকে শুরু হলেও পরে তা ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হয়ে ওঠে। হালখাতা, নতুন পোশাক, ঘর সাজানো—সব মিলিয়ে বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে তৈরি হয় বাড়তি গতি। এ বছর আবার বৈশাখের অল্প সময় পরই ঈদ থাকায় বাজারে কেনাকাটার আমেজ আরও বেড়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশের বিপণিবিতানগুলোতে রঙিন পোশাক, বিশেষ করে লাল-সাদা ঐতিহ্যের ছোঁয়া, নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলেও চলছে বৈসাবি উৎসব—বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজুর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ উৎসব সেখানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ফুল ভাসিয়ে পুরোনো গ্লানি বিদায় এবং নতুন বছরের শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারাও এই সময় নতুন করে উজ্জীবিত হয়।
প্রতিটি নববর্ষই আমাদের সামনে নতুন প্রত্যয়ের বার্তা নিয়ে আসে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জন্য এই দিনটি হয়ে উঠুক ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হৃদয়ে জাগুক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রত্যাশা—‘অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’—আজও সমান প্রাসঙ্গিক। নতুন বছরের সূর্যোদয়ে আমরা যেন সব সংকীর্ণতা ভুলে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে পারি—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
শুভ নববর্ষ।
























