একজন বেনজীন খান
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
একজন বেনজীন খান, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা সাংবাদিক নন; তিনি একাধারে মাঠপর্যায়ের অ্যাক্টিভিস্ট এবং উচ্চপর্যায়ের চিন্তক। বৈচিত্র্যময় জীবন-অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং সাহিত্য সাধনা তাঁকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা সামগ্র দেশের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনন্য মাত্রায় দাঁড় করিয়েছে।
প্রকাশিত-অপ্রকাশিত কাজ: তাঁর গবেষণাধর্মী ও সাহিত্যিক কাজের পরিধি কত বিশাল, তা বোঝা যায় এ পর্যন্ত তাঁর লেখা ১২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবং অপ্রকাশিত অসংখ্য পাণ্ডুলিপি দেখে, যা প্রকাশের অপেক্ষায়। একজন চিন্তক, কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক হিসেবে বেনজীন খানের অবদান সমাদৃত। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন “আবুল হুসেন রাষ্ট্রসভা” নামে পাঠচক্র, “প্রাচ্য আকাদেমি” নামে স্কুল অফ ফাইন আর্টস এবং বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র “প্রাচ্যসংঘ” প্রগতিশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম।
বেনজীন খান দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু গণমাধ্যম ও প্রকাশনায় সুনামের সাথে কাজ করেছেন।
যশোরের স্থানীয় পত্রিকা: দৈনিক রানার, বর্তমান দৈনিক এবং দৈনিক লোকসমাজ।
জাতীয় গণমাধ্যম ও সাময়িকী: পাক্ষিক চিন্তা, আরটিভি, বাংলাবাজার পত্রিকা, দৈনিক ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত এবং জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া সহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর বহু লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
পরবর্তীতে তিনি নিজেই ‘প্রাচ্য সংবাদ’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বেনজীন খান প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং একপর্যায়ে সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী (হোল-টাইমার) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
আদর্শ ও দায়িত্ব: ছাত্রজীবনে তিনি বাম ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রদল’ -এর মতাদর্শ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর হোল-টাইমার কর্মী হন। দলের নির্দেশে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় নাখালপাড়ার একটি বাড়িতে লজিং থেকে জাতীয় ছাত্রদল ও পার্টির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সরকারের আমলে তিনি নিগৃহীত হয়েছেন, জেল খেটেছেন। স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের পর বিএনপির প্রথম সরকার আমলে তিনি যশোরে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের পক্ষে হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের আন্দোলন থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ৩ মাস কারাবরণ করেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি দীর্ঘ ১৬ মাস কারাবরণ করেন। এছাড়া এরশাদের জাতীয় পার্টি শাসনামলে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে (পলাতক) ছিলেন।
বেনজীন খান যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিয়া বাড়ি জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেঝো।
পারিবারিক ঐতিহ্য: তাঁর পিতা এ. এস. এম শওকত আলী ছিলেন ব্রিটিশ-ভারতের নৌ বাহিনীর চিফ পেটি অফিসার। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন যোদ্ধা ছিলেন। নৌবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। একজন যোদ্ধা এবং শিক্ষক পিতার কাছ থেকেই বেনজীন খান বাল্যকালেই পেয়েছেন ডিসিপ্লিন, নৈতিকতা, সাহস ও জ্ঞান চর্চার পিপাসা।
প্রাথমিক শিক্ষা জীবন: তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের সিংহ ঝুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্লাস থ্রিতে তাকে ভর্তি করা হয় সিংহঝুলী ফোরকানিয়া মাদ্রাসায়। এরপর ক্লাস ফাইভে তিনি ভর্তি হন চৌগাছা পাইলট হাই স্কুলে। এবং ওই বছরেই তিনি স্থায়ীভাবে চলে আসেন যশোর শহরে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক: যশোর শহরে এসে তিনি বি.এ.এফ শতদল স্কুলে (বর্তমান শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ক্লাস ফাইভে ভর্তি হন। এই শাহীন কলেজেই এইচএসসি কিছুদিন ক্লাস করে তিনি চলে আসেন ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজে। এখান থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই পার্টির হোল টাইমার হয়ে যান। পরে তিনি বিশেষ প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে এইচএসসি পাশ করে এম এম কলেজেই ইতিহাসে অনার্সে ভর্তি হন। এক বছর পর তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে ঢাকায় চলে যান।
উচ্চশিক্ষা: দলের অগোচরে গোপনে ঢাকা তেজগাঁও কলেজ থেকে তিনি ডিগ্রি (স্নাতক) পাস করেন। এরপর মোহাম্মদপুর সেন্ট্রাল কলেজে থেকে দর্শন শাস্ত্রে এমএ প্রথম পর্ব শেষ করে গ্রেপ্তার হন। জেল থেকে বের হয়ে পরবর্তীতে তিনি ঢাকার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন’ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।





















