ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দাঁত মাজার পেস্টেই বিষ! জানুন শরীরে কী ক্ষতি হতে পারে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ দিনের ছুটি, ক্লাস হবে ৩৮ দিন আদালতে খুলছে জাবেদের ‘ছক’: জাল ট্রেড লাইসেন্স,মিথ্যা পরিচয়ে ব্যাংক হিসাব, ২৫ কোটির ঋণ চুল পড়া কমাতে রোজমেরি হেয়ার স্প্রে, ঘরেই তৈরি করুন সহজ উপায়ে তৃতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে ২০২৮ সালে ভোটে লড়বেন ট্রাম্প জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া, পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী যশোরে বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক, তদন্তে র‌্যাব যশোরে ৫ স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: আইনমন্ত্রী সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ, তদন্তের আবেদন

বিজয়ের নিশান

শহিদুল ইসলাম দইচ
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিকেলের সূর্যটা যখন নদীর ওপারে হেলে পড়ছিল, ঠিক তখনই বারান্দায় এসে বসলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোহরাব হোসেন। এই নির্জন বিকালগুলো আজকাল বড্ড ভারী ঠেকে। বাতাসটা যেন স্মৃতির কড়া নেড়ে যায় বুকের ভেতর।
​আজ সকালেই বাজারে একটা দৃশ্য দেখে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল তাঁর। যে ছেলেটি একসময় সুদের ব্যবসায় জড়িয়ে পুরো গ্রামটাকে চুষে খেয়েছে, যে আজ অবৈধ টাকার গরমে আঙুল ফুলে কলাগাছ, তাকেই সমাজের মাতব্বররা মাথায় করে নাচছে। মঞ্চের প্রথম সারিতে তাকেই দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। আর সোহরাব হোসেনের মতো আজীবন সততার সাথে শিক্ষকতা করা মানুষগুলো ভিড়ের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে।

​আজকাল সমাজে নিয়মটাই উল্টে গেছে। সুদখোর আর ঘুষখোররা পায় সম্মান, আর সৎ, শালিন, পরোপকারী ও মানবিক মানুষগুলো প্রতিনিয়ত হচ্ছে অসম্মানিত।

অসতের আত্মতৃপ্তি ও সমাজের পচন:​ সোহরাব হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন, এই অসৎ লোকগুলো কী অদ্ভুত এক আত্মতৃপ্তির নেশায় মাতাল হয়ে আছে! নিজেদের পাপ ঢাকতে এরা তৈরি করেছে এক কৃত্রিম প্রশান্তি বলয়। উর্ধ্ব গগনে, অর্থাৎ ক্ষমতার চূড়ায় দৃষ্টি রেখে এরা নিচে ভাসিয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের কষ্টের বন্যা।

​সমাজের আনাচে-কানাচে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কেন্দ্রে জড়ো হচ্ছে এই দুর্নীতিবাজরা। এদের পাপের স্রোত এসে যেন আঘাত করছে সমাজের মূল কেন্দ্রে। যার কারণে গোটা সমাজ, দেশ আর জাতি রসাতলে যাচ্ছে। নৈতিকতার পরাজয়ে ধরেছে তীব্র পচন।

রাতের অন্ধকার ও স্বপ্ন:​ সন্ধ্যা নেমে এলো। চারপাশটা যেন অন্ধকারের চাদরে ঢাকা পড়ে গেল, ঠিক যেমনটা ঢেকে গেছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা। সোহরাব হোসেনের ঘরের কোণের প্রদীপটা বাতাসে দপ করে নিভে গেল।

​কিন্তু তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। দেশলাই কাঠিটা জ্বালিয়ে পরম যত্নে প্রদীপটা জ্বালিয়ে দিলেন। অন্ধকারের বুক চিরে আলো জ্বলে উঠল।

​তার মনের গভীরে, আবেগের ভিড়ে স্বপ্নরা নতুন করে জন্ম নিতে শুরু করল। তিনি মনে মনে এক নতুন গল্পের বুনন করলেন—যে গল্পে জয় হবে শুধু সুন্দরের।

বিজয়ের নিশান :​ সোহরাব হোসেন প্রদীপের আলোর দিকে মনে স্বপ্ন জাগালেন।​”আত্মতৃপ্তির নেশায় মাতাল ওই সমস্ত অসৎ, নীতি-নৈতিকতাহীন ঘুষ ও সুদখোররা পরাজিত হোক! তারা বরণ করুক তীব্র আত্মগ্লানি। আর সমাজে সুস্থ, সুন্দর মানসিকতা নিয়ে মানবিক মানুষগুলো আবার উঠে দাঁড়াক বিজয়ের নিশান হাতে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিজয়ের নিশান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিকেলের সূর্যটা যখন নদীর ওপারে হেলে পড়ছিল, ঠিক তখনই বারান্দায় এসে বসলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোহরাব হোসেন। এই নির্জন বিকালগুলো আজকাল বড্ড ভারী ঠেকে। বাতাসটা যেন স্মৃতির কড়া নেড়ে যায় বুকের ভেতর।
​আজ সকালেই বাজারে একটা দৃশ্য দেখে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল তাঁর। যে ছেলেটি একসময় সুদের ব্যবসায় জড়িয়ে পুরো গ্রামটাকে চুষে খেয়েছে, যে আজ অবৈধ টাকার গরমে আঙুল ফুলে কলাগাছ, তাকেই সমাজের মাতব্বররা মাথায় করে নাচছে। মঞ্চের প্রথম সারিতে তাকেই দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। আর সোহরাব হোসেনের মতো আজীবন সততার সাথে শিক্ষকতা করা মানুষগুলো ভিড়ের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে।

​আজকাল সমাজে নিয়মটাই উল্টে গেছে। সুদখোর আর ঘুষখোররা পায় সম্মান, আর সৎ, শালিন, পরোপকারী ও মানবিক মানুষগুলো প্রতিনিয়ত হচ্ছে অসম্মানিত।

অসতের আত্মতৃপ্তি ও সমাজের পচন:​ সোহরাব হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন, এই অসৎ লোকগুলো কী অদ্ভুত এক আত্মতৃপ্তির নেশায় মাতাল হয়ে আছে! নিজেদের পাপ ঢাকতে এরা তৈরি করেছে এক কৃত্রিম প্রশান্তি বলয়। উর্ধ্ব গগনে, অর্থাৎ ক্ষমতার চূড়ায় দৃষ্টি রেখে এরা নিচে ভাসিয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের কষ্টের বন্যা।

​সমাজের আনাচে-কানাচে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কেন্দ্রে জড়ো হচ্ছে এই দুর্নীতিবাজরা। এদের পাপের স্রোত এসে যেন আঘাত করছে সমাজের মূল কেন্দ্রে। যার কারণে গোটা সমাজ, দেশ আর জাতি রসাতলে যাচ্ছে। নৈতিকতার পরাজয়ে ধরেছে তীব্র পচন।

রাতের অন্ধকার ও স্বপ্ন:​ সন্ধ্যা নেমে এলো। চারপাশটা যেন অন্ধকারের চাদরে ঢাকা পড়ে গেল, ঠিক যেমনটা ঢেকে গেছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা। সোহরাব হোসেনের ঘরের কোণের প্রদীপটা বাতাসে দপ করে নিভে গেল।

​কিন্তু তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন। দেশলাই কাঠিটা জ্বালিয়ে পরম যত্নে প্রদীপটা জ্বালিয়ে দিলেন। অন্ধকারের বুক চিরে আলো জ্বলে উঠল।

​তার মনের গভীরে, আবেগের ভিড়ে স্বপ্নরা নতুন করে জন্ম নিতে শুরু করল। তিনি মনে মনে এক নতুন গল্পের বুনন করলেন—যে গল্পে জয় হবে শুধু সুন্দরের।

বিজয়ের নিশান :​ সোহরাব হোসেন প্রদীপের আলোর দিকে মনে স্বপ্ন জাগালেন।​”আত্মতৃপ্তির নেশায় মাতাল ওই সমস্ত অসৎ, নীতি-নৈতিকতাহীন ঘুষ ও সুদখোররা পরাজিত হোক! তারা বরণ করুক তীব্র আত্মগ্লানি। আর সমাজে সুস্থ, সুন্দর মানসিকতা নিয়ে মানবিক মানুষগুলো আবার উঠে দাঁড়াক বিজয়ের নিশান হাতে।”