৪২ বছর পর চট্টগ্রামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত—ভেঙেছে সড়ক

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
৪২ বছর পর চট্টগ্রাম নগরবাসী গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেখলো। ১৯৮৩ সালের পর যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগের রেকর্ড ৫১১ মিলিমিটার। অতিভারী বৃষ্টিতে নগরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। রিং রোডে একাংশ ভেঙে গেছে। একইসঙ্গে পাঁচলাইশে পাহাড়ধসে মারা গেছে এক যুবক, আহত হয়েছে আরও তিনজন।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এমন বৃষ্টি যদি অমাবস্যা অথবা পূর্ণিমার সময়ে হতো তাহলে হয়তো জোয়ারের উচ্চতা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতো। আর এতেই বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতো চট্টগ্রামবাসী। তবে আরও ৩ দিন এমন বৃষ্টিপাত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একদিনে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ নগরী যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
পতেঙ্গার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, সোমবার ৩টা থেকে মঙ্গলবার ৩টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার। জোয়ার শুরু হয়েছে সকাল ১১টা ৪৪ মিনিট থেকে। জোয়ার থাকবে বিকেল ৫টা ৩৫ পর্যন্ত। জোয়ারের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫৬ মিটার।
সুমন সাহা আরও বলেন, আগামী ১৪ জুলাই পূর্ণিমা। পূর্ণিমা জোয়ারের উচ্চতা ৫ থেকে সাড়ে ৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। আর এমন অতিভারী বৃষ্টি হলে জোয়রের পানি বেড়ে যেতো, পানি নিষ্কাশন কঠিন হয়ে পড়তো। স্বাভাবিক জোয়ারের সময় বৃষ্টির পানি যোগ হলে পানি নেমে যেতে সময় লাগে। ততক্ষণে নগর ডুবে যেতো।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সারাদিনের বৃষ্টিতে জোয়ারের পানি যোগ হওয়ায় নগরীতে জলাবদ্ধতার পানি সরতে সময় লেগেছে। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মিলিমিটার। আরও ২ থেকে ৩ দিন এমন বৃষ্টিবলয় থাকতে পারে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রয়েছে পাহাড়ধসের সতকর্তাও।
বিকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলেও জলাবদ্ধতার পানি ধীরে সরছে। নালা আর্বজনায় ভর্তি থাকায় পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সকালে নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, কাতালগঞ্জ, চান্দগাঁও, পাঠানটুলী, চৌমুহনী, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মোহরা ও পতেঙ্গা এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে। অনেক স্থানে সড়ক ও নালা একাকার হয়ে যাওয়ায় গাড়ি ধীরগতিতে চলাচল করছিল।
আগ্রবাদের বেশিরভাগ এলাকায় বিকেল ৫টার পরও পানিবন্দি দেখা গেছে। বেপারিপাড়া, হাজীপাড়া, এক্সেস রোডসহ পুরে এলাকা পানিতে ডুবে ছিল। বাসাবাড়ি-দোকানপাটেও পানি দেখা গেছে। আর এ সুযোগে রিকশা-অটোরিকশার ভাড়াও দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট নামতে না পেরে ঢাকায় অবতরণ করে। এছাড়া নগরের পতেঙ্গা রিং রোডে মাটি সরে গিয়ে রাস্তা ধসে পড়ে।



















