প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৫ বছরের কারাদণ্ড, ডিজিটাল কারসাজিতেও কঠোর শাস্তির বিধান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া এবং পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির ঘটনায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’ পাস হয়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।
নতুন আইনে অনলাইন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির সংজ্ঞাও যুক্ত করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেসে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, সংশোধন, মুছে ফেলা বা গোপন করাকে ডিজিটাল কারসাজি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ, পরীক্ষার নির্দেশনা অমান্য এবং পরীক্ষা পরিচালনায় বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে বা তার পক্ষে কারও সঙ্গে লিখিত বা মৌখিক চুক্তি করা কিংবা এ ধরনের চেষ্টা করলেও ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
নতুন আইনে উত্তরপত্রের অন্যায্য মূল্যায়নের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।
বিলে শিশুদের জন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো শিশু এ আইনের আওতায় অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জাতীয় সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৬’ প্রণয়নের লক্ষ্যে আরেকটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন।
বিলে ২০০১ সালের বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন রহিত করে নতুন নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বগুড়ায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা প্রশাসন, আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নতুন আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।



















