ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনসিপিসহ ৭ রাজনৈতিক দলকে ইসির শোকজ, ঝুঁকিতে নিবন্ধন গোলাপি প্রাসাদের ভেতরে কী আছে? জানুন আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস বালু উত্তোলন নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত সূচিত মাদক প্রতিরোধে আসছে নতুন আইন, সংসদে উঠছে সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার দাবি শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি মাদকের ভয়াবহ ছোবলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে: ভুমিমন্ত্রী মিনু লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, ভেনেজুয়েলা জুড়ে হাহাকার

গোলাপি প্রাসাদের ভেতরে কী আছে? জানুন আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গোলাপি রঙের ঐতিহাসিক প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল আজ রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। একসময় নবাব পরিবারের বাগানবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর, যেখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

প্রাসাদের দক্ষিণে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা নদী। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সুসজ্জিত ফুলের বাগান, বিস্তীর্ণ সবুজ লন এবং প্রাসাদের সামনে নেমে আসা সুবিশাল সিঁড়ি। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে স্থাপনাটি।

ইতিহাসের পাতায় আহসান মঞ্জিল

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ বুড়িগঙ্গার তীরে একটি রংমহল নির্মাণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে শেখ মতিউল্লাহ এটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করেন।

পরবর্তীতে ১৮৩৫ সালের দিকে নবাব আবদুল গনির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ ভবনটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। পরে ১৮৭২ সালে নবাব আবদুল গনি ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে তাঁর পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামে এর নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল

স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য

দোতলা এই প্রাসাদটি মার্বেল পাথরের বারান্দা ও মেঝে, অষ্টকোণ আকৃতির কক্ষ এবং নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ভবনের পূর্বাংশে রয়েছে বৃহৎ খাবার ঘর, উত্তরে গ্রন্থাগার, পশ্চিমে জলসাঘর এবং নিচতলায় বিলিয়ার্ড খেলার কক্ষ। দোতলায় রয়েছে বৈঠকখানা, অতিথিকক্ষ, নাচঘর ও আবাসিক কক্ষ।

আহসান মঞ্জিলকে ঢাকার প্রথম ইট-পাথরের তৈরি প্রাসাদগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানেই নবাব পরিবারের উদ্যোগে প্রথম বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ঢাকায় এলে এই প্রাসাদেই অবস্থান করতেন।

বাংলাদেশ সরকার ভবনটিকে সংরক্ষণ করে জাদুঘরে রূপান্তর করে এবং ১৯৯২ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে। বর্তমানে জাদুঘরে প্রায় ৪ হাজার ৭৭টি নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। রংমহলের ৩১টি কক্ষের মধ্যে ২৩টিতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রবেশ মূল্য

  • বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্ক: ৫ টাকা
  • ১২ বছরের নিচে বাংলাদেশি শিশু: ২ টাকা
  • সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থী: ৫ টাকা
  • অন্যান্য বিদেশি দর্শনার্থী: ৭৫ টাকা
  • প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ বিনামূল্যে
  • পূর্বানুমতি সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের দলও বিনামূল্যে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পায়।

সময়সূচি

অক্টোবর–মার্চ

  • বৃহস্পতিবার: সাপ্তাহিক বন্ধ
  • শুক্রবার: বিকেল ৩টা–সন্ধ্যা ৭টা
  • শনিবার–বুধবার: সকাল ৯টা–বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট

এপ্রিল–সেপ্টেম্বর

  • বৃহস্পতিবার: সাপ্তাহিক বন্ধ
  • শুক্রবার: বিকেল ৩টা–সন্ধ্যা ৭টা
  • শনিবার–বুধবার: সকাল ১০টা–বিকেল ৫টা

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান হয়ে নয়াবাজার ও বাবুবাজারের দিক দিয়ে ইসলামপুরে পৌঁছে সহজেই রিকশা বা হেঁটে আহসান মঞ্জিলে যাওয়া যায়। এছাড়া সদরঘাট থেকে রিকশায় মাত্র কয়েক মিনিটের পথ।

পুরান ঢাকার ইতিহাস, নবাবদের ঐতিহ্য এবং ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য একসঙ্গে দেখতে চাইলে আহসান মঞ্জিল হতে পারে একটি আদর্শ ভ্রমণগন্তব্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গোলাপি প্রাসাদের ভেতরে কী আছে? জানুন আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গোলাপি রঙের ঐতিহাসিক প্রাসাদ আহসান মঞ্জিল আজ রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। একসময় নবাব পরিবারের বাগানবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর, যেখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

প্রাসাদের দক্ষিণে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা নদী। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সুসজ্জিত ফুলের বাগান, বিস্তীর্ণ সবুজ লন এবং প্রাসাদের সামনে নেমে আসা সুবিশাল সিঁড়ি। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে স্থাপনাটি।

ইতিহাসের পাতায় আহসান মঞ্জিল

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ বুড়িগঙ্গার তীরে একটি রংমহল নির্মাণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে শেখ মতিউল্লাহ এটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করেন।

পরবর্তীতে ১৮৩৫ সালের দিকে নবাব আবদুল গনির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ ভবনটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। পরে ১৮৭২ সালে নবাব আবদুল গনি ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে তাঁর পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামে এর নাম রাখেন আহসান মঞ্জিল

স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য

দোতলা এই প্রাসাদটি মার্বেল পাথরের বারান্দা ও মেঝে, অষ্টকোণ আকৃতির কক্ষ এবং নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ভবনের পূর্বাংশে রয়েছে বৃহৎ খাবার ঘর, উত্তরে গ্রন্থাগার, পশ্চিমে জলসাঘর এবং নিচতলায় বিলিয়ার্ড খেলার কক্ষ। দোতলায় রয়েছে বৈঠকখানা, অতিথিকক্ষ, নাচঘর ও আবাসিক কক্ষ।

আহসান মঞ্জিলকে ঢাকার প্রথম ইট-পাথরের তৈরি প্রাসাদগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানেই নবাব পরিবারের উদ্যোগে প্রথম বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ঢাকায় এলে এই প্রাসাদেই অবস্থান করতেন।

বাংলাদেশ সরকার ভবনটিকে সংরক্ষণ করে জাদুঘরে রূপান্তর করে এবং ১৯৯২ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে। বর্তমানে জাদুঘরে প্রায় ৪ হাজার ৭৭টি নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। রংমহলের ৩১টি কক্ষের মধ্যে ২৩টিতে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রবেশ মূল্য

  • বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্ক: ৫ টাকা
  • ১২ বছরের নিচে বাংলাদেশি শিশু: ২ টাকা
  • সার্কভুক্ত দেশের দর্শনার্থী: ৫ টাকা
  • অন্যান্য বিদেশি দর্শনার্থী: ৭৫ টাকা
  • প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ বিনামূল্যে
  • পূর্বানুমতি সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের দলও বিনামূল্যে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পায়।

সময়সূচি

অক্টোবর–মার্চ

  • বৃহস্পতিবার: সাপ্তাহিক বন্ধ
  • শুক্রবার: বিকেল ৩টা–সন্ধ্যা ৭টা
  • শনিবার–বুধবার: সকাল ৯টা–বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট

এপ্রিল–সেপ্টেম্বর

  • বৃহস্পতিবার: সাপ্তাহিক বন্ধ
  • শুক্রবার: বিকেল ৩টা–সন্ধ্যা ৭টা
  • শনিবার–বুধবার: সকাল ১০টা–বিকেল ৫টা

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে গুলিস্তান হয়ে নয়াবাজার ও বাবুবাজারের দিক দিয়ে ইসলামপুরে পৌঁছে সহজেই রিকশা বা হেঁটে আহসান মঞ্জিলে যাওয়া যায়। এছাড়া সদরঘাট থেকে রিকশায় মাত্র কয়েক মিনিটের পথ।

পুরান ঢাকার ইতিহাস, নবাবদের ঐতিহ্য এবং ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য একসঙ্গে দেখতে চাইলে আহসান মঞ্জিল হতে পারে একটি আদর্শ ভ্রমণগন্তব্য।