উচ্চ বেতনের আশ্বাস দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ
চাকরির প্রলোভনে চীনে পাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ১২ পাহাড়ি নারী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
উচ্চ বেতনে চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের চীনে পাচারের চেষ্টা করছিল একটি চক্র। এ উদ্দেশ্যে রাজধানীর ভাটারা ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় আটকে রাখা ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-১-এর অধিনায়ক নেয়ামুল হালিম খান। তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে তাদের বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা করছিল চক্রটি। এর মূল হোতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা
এসআরবি-১ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নারীরা জানিয়েছেন, তাদের চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উচ্চ বেতনের চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে তাঁদের রাজধানীর বিভিন্ন বাসায় আটকে রাখা হয়।
প্রাথমিকভাবে আরও জানা গেছে, আটকে থাকা অবস্থায় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত এবং পাচারের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া ১২ নারীকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও বিদেশি মদ উদ্ধার
মানব পাচারবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে এসআরবি-১। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গুলশান এলাকা থেকে পাঁচ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ৪৩০ লিটার বিদেশি মদ এবং ১৫৫ লিটার বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
এসআরবি-১-এর অধিনায়ক নেয়ামুল হালিম খান বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মানব পাচারের ফাঁদে পড়া নারীদের উদ্ধার করা গেলেও চক্রটির মূল হোতাসহ অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং পাচারের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।






















