ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাকরির প্রলোভনে চীনে পাচারের চেষ্টা, উদ্ধার ১২ পাহাড়ি নারী লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার-২ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জয়পুরহাটে ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ​ ডেঙ্গুর দাপটে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু জয়-পুতুলসহ সিআরআইয়ের ৮ জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত তেঁতুলিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ১১ দিন পর গ্রামে ফিরল চারজনের মরদেহ, মণিরামপুরে শোকের মাতম আইজিপি পদে রদবদলের আভাস, আলোচনায় চার পুলিশ কর্মকর্তা

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা গেলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’

সভায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি ও আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাঁর মতে, বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বাড়তি সুবিধা পাবে।

স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে জাপানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না। একই সঙ্গে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে রোগের প্রকোপ কমবে। এতে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।

তিনি বলেন, কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থান করলেও তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সভায় জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজা সভাপতিত্ব করেন। এ সময় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা গেলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’

সভায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি ও আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাঁর মতে, বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বাড়তি সুবিধা পাবে।

স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে জাপানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না। একই সঙ্গে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে রোগের প্রকোপ কমবে। এতে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি।

তিনি বলেন, কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থান করলেও তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সভায় জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজা সভাপতিত্ব করেন। এ সময় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।