ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারিধারায় গাড়িচাপার ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পুনরায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এ আদেশ দেন।

শুনানিতে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান দাবি করেন, ঘটনার দিন ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর গাড়ি চালাচ্ছিল না। তাকে নির্দোষ দাবি করে জামিন তার আইনগত অধিকার বলেও যুক্তি দেন তিনি। আইনজীবী আরও বলেন, গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের পর তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় তাদের আর কোনো আপত্তি নেই।

এ সময় নিহত শ্রমিকের বাবা ও ভাইকে আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, গাড়িচাপার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না বলে জানান তিনি।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক বলেন, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে ওই কিশোরকে গাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। তাকে জামিন দেওয়া হলে সমাজে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এবং এতে অপরাধ প্রশ্রয় পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরে আদালত কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার বারিধারা এলাকার একটি সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় একটি প্রাইভেটকার হঠাৎ ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে অন্য একজনকে আসামি দেখিয়ে ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পরে কিশোরের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, নিহত মেহেদী হাসানের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে আপস হয়েছে। এরপর কিশোরের জামিনের আবেদন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বারিধারায় গাড়িচাপার ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন নামঞ্জুর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত কিশোরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পুনরায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির এ আদেশ দেন।

শুনানিতে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান দাবি করেন, ঘটনার দিন ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর গাড়ি চালাচ্ছিল না। তাকে নির্দোষ দাবি করে জামিন তার আইনগত অধিকার বলেও যুক্তি দেন তিনি। আইনজীবী আরও বলেন, গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের পর তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় তাদের আর কোনো আপত্তি নেই।

এ সময় নিহত শ্রমিকের বাবা ও ভাইকে আদালতে হাজির করা হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, গাড়িচাপার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না বলে জানান তিনি।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক বলেন, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে ওই কিশোরকে গাড়ি থেকে বের হতে দেখা গেছে। তাকে জামিন দেওয়া হলে সমাজে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এবং এতে অপরাধ প্রশ্রয় পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরে আদালত কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার বারিধারা এলাকার একটি সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় একটি প্রাইভেটকার হঠাৎ ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে অন্য একজনকে আসামি দেখিয়ে ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পরে কিশোরের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, নিহত মেহেদী হাসানের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে আপস হয়েছে। এরপর কিশোরের জামিনের আবেদন করা হয়।