ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের ব্যবসায় আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির, কমাতে বললেন ব্যাংক সুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উদ্ভাবনী চিন্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

এআই ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে তরুণদের সম্পৃক্ততার তাগিদ

রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

দেশে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশেও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

স্বল্প সুদের ঋণে শিল্পায়নের প্রসঙ্গ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময়ে এ ধরনের ঋণের ফলে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গড়ে উঠেছিল নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে’ আমন্ত্রণ

এ সময় ডিসিসিআই আয়োজিত আসন্ন ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরে।

গণতন্ত্র ও ব্যবসা পরিবেশ নিয়েও বক্তব্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। তবে গণতন্ত্র অর্জনের পর সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, অতীতে ‘লুটপাটতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার কারণে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল। ব্যক্তিগত লোভের কারণে ব্যাংকিং খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তরুণদের ব্যবসায় আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির, কমাতে বললেন ব্যাংক সুদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

উদ্ভাবনী চিন্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

এআই ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে তরুণদের সম্পৃক্ততার তাগিদ

রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

দেশে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশেও ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

স্বল্প সুদের ঋণে শিল্পায়নের প্রসঙ্গ

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময়ে এ ধরনের ঋণের ফলে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে শিল্পায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গড়ে উঠেছিল নতুন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে’ আমন্ত্রণ

এ সময় ডিসিসিআই আয়োজিত আসন্ন ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

ডিসিসিআই প্রতিনিধিরা জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির কাছে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরে।

গণতন্ত্র ও ব্যবসা পরিবেশ নিয়েও বক্তব্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে। তবে গণতন্ত্র অর্জনের পর সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ব্যর্থতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, অতীতে ‘লুটপাটতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার কারণে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল। ব্যক্তিগত লোভের কারণে ব্যাংকিং খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় সামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।