‘খাঁটি পেকোয়া ঘি’—নাকি গাছের গুঁড়া-পাম অয়েলের কারসাজি?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের বাজারে ‘বিশুদ্ধ খাঁটি পেকোয়া গাওয়া ঘি’ নামে যে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছিল, তার ভেতরে আসলে কী ছিল? মোড়কে লেখা ‘খাঁটি’ শব্দের আড়ালে কি চলছিল ভেজালের বড় কারবার?
রোববার (৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পাশের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যে চিত্র পেয়েছে, তাতে সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে গাছের গুঁড়া ও পাম অয়েল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল কথিত ‘খাঁটি ঘি’।
শুধু ভেজাল উপাদান দিয়েই থেমে থাকেনি কারবার। তৈরি করা পণ্য টিনের ক্যানজাত করে তাতে আকর্ষণীয় মোড়কের স্টিকার লাগানো হতো। এরপর প্রতি কেজি ৯৬০ টাকা দরে বাজারজাত করা হচ্ছিল। প্রশ্ন উঠছে—সাধারণ ক্রেতা মোড়কের চাকচিক্য দেখে কীভাবে বুঝবেন, ভেতরে আসলে কী রয়েছে?
ভেজাল পণ্যের বাজার বাড়াতে কমিশনের কৌশল
অভিযানে উঠে এসেছে কারবারটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব কথিত ঘি বিক্রির জন্য বাবুর্চিদের কমিশন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্টিকারের মাধ্যমে কমিশন বণ্টনের ব্যবস্থা করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে এসব পণ্য সরবরাহ করা হতো। অর্থাৎ শুধু দোকান বা বাজারে পণ্য পৌঁছে দেওয়াই নয়, অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক চাহিদাকেও কাজে লাগানোর একটি আলাদা কৌশল ছিল বলে অভিযানে তথ্য পাওয়া গেছে।
কারখানার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি বাবুর্চিদের কমিশন দিয়ে বিভিন্ন আয়োজনে পণ্য সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
একবার অভিযান, তবু বন্ধ হয়নি কারবার
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে কারখানাটির কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগেও একই স্থানে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কীভাবে সেখানে ভেজাল ঘি তৈরির কার্যক্রম আবার চলতে থাকল—সেই প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অর্থাৎ অভিযান হয়েছিল, কিন্তু তাতে কি কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়েছিল? নাকি কিছুদিন পর আবার একইভাবে উৎপাদন শুরু হয়? আর যদি পুনরায় উৎপাদন হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন ধরে তা নজরদারির বাইরে রইল কীভাবে?
‘খাঁটি’ নামের আড়ালে ভেজাল পণ্য
অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেখতে পান, কারখানাটিতে সম্পূর্ণ ভেজাল পণ্য তৈরির কার্যক্রম চলছিল।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ জানান, কারখানাটিতে সম্পূর্ণ ভেজাল পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উদ্ধার করা এসব পণ্য ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা নগদ জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে জরিমানা ও সিলগালার পরই কি শেষ হবে এই কারবারের গল্প? নাকি একই ধরনের আরও কারখানা, সরবরাহকারী ও বাজারজাতকারীদের খুঁজে বের করাও জরুরি?
কারণ একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল ঘি জব্দ করার পরও যদি একই পণ্য অন্য পথে বাজারে পৌঁছে যায়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—‘খাঁটি ঘি’র নামে ভেজালের এই চক্রের পরিধি আসলে কতটা বড়?






















