ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সান্তাহারে অটোরিকশা সংগঠনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি :
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Oplus_16908288

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা এবং চালক-মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬০০ অটোরিকশা শ্রমিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হলেও এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের জানানো হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘আদমদীঘি উপজেলা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। স্থানীয়দের দাবি, সান্তাহারের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের একটি কার্যালয় থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে টাকা

অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্য হতে ৩০০ টাকা, অটোরিকশার সিরিয়ালের জন্য ২০ টাকা, মালিকের বই বাবদ ৫০০ টাকা এবং চালকের লাইসেন্স বইয়ের জন্য ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট, মালশন, দোগাছী ও স্টেশন রোডের স্ট্যান্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এসব অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রমে অনুমোদনহীন লাইসেন্স বই ও নেমপ্লেট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সদস্য ভর্তি ও অর্থ আদায়ের কাজ ‘শুভ’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ নেওয়া হলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয় না। এমনকি বিভিন্ন উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা শ্রমিকদের কল্যাণেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহলের অনেকে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যা বলছে সমিতি ও পৌরসভা

অভিযোগের বিষয়ে অটোরিকশা মালিক সমিতির ক্যাশিয়ার শুভ বলেন, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আলমের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে এখনো সদস্য ভর্তি, সিরিয়াল ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। লাইসেন্স পরিদর্শকের পরিবর্তে তার স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

সান্তাহার পৌরসভার মুখপাত্র ও সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, পৌরসভার নাম ব্যবহার করে চাঁদা বা অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা থেকে এ ধরনের কোনো লাইসেন্স বা বই ইস্যু করা হয়নি।

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সান্তাহারে অটোরিকশা সংগঠনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা এবং চালক-মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬০০ অটোরিকশা শ্রমিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হলেও এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের জানানো হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘আদমদীঘি উপজেলা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা মালিক সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। স্থানীয়দের দাবি, সান্তাহারের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের একটি কার্যালয় থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে টাকা

অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনের সদস্য হতে ৩০০ টাকা, অটোরিকশার সিরিয়ালের জন্য ২০ টাকা, মালিকের বই বাবদ ৫০০ টাকা এবং চালকের লাইসেন্স বইয়ের জন্য ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

সান্তাহার পৌর শহরের ঘোড়াঘাট, মালশন, দোগাছী ও স্টেশন রোডের স্ট্যান্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এসব অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রমে অনুমোদনহীন লাইসেন্স বই ও নেমপ্লেট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সদস্য ভর্তি ও অর্থ আদায়ের কাজ ‘শুভ’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ নেওয়া হলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয় না। এমনকি বিভিন্ন উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা শ্রমিকদের কল্যাণেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহলের অনেকে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যা বলছে সমিতি ও পৌরসভা

অভিযোগের বিষয়ে অটোরিকশা মালিক সমিতির ক্যাশিয়ার শুভ বলেন, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আলমের অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তবে এখনো সদস্য ভর্তি, সিরিয়াল ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি। লাইসেন্স পরিদর্শকের পরিবর্তে তার স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

সান্তাহার পৌরসভার মুখপাত্র ও সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, পৌরসভার নাম ব্যবহার করে চাঁদা বা অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা থেকে এ ধরনের কোনো লাইসেন্স বা বই ইস্যু করা হয়নি।

বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।