দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, অপরাধীর পরিচয় আড়াল নয়: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রতিমা বিসর্জন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্দ দেওয়া অনুদান পূজা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের সব পূজামণ্ডপে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
একই সঙ্গে পূজার সময় সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির এই চর্চা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
অন্য ধর্মের উপাস্য সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিংবা সম্পাদিত ছবি, ভিডিও বা ঘটনার অপব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হলে দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের অপতৎপরতার বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন যুবসমাজকে সঠিক তথ্য প্রচারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ডিনায়েল স্টেজে আমরা থাকতে চাই না।” কোনো ব্যক্তি আটক হওয়ার পর তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা না বুঝে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, কোনো ঘটনার পর শুরুতে কিছুটা ধাক্কা এলেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে মানুষের মনে থাকা ক্ষত কমানো সম্ভব।
অপরাধীর পরিচয় আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট এবং পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


























