একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
চলতি অর্থবছরের চতুর্থ সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
স্বাস্থ্য, আর্থিক খাত, পানি সম্পদ, স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও বিমানবন্দর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের সংশোধন ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
টিবি, এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় ৪ হাজার কোটি টাকা
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চলবে প্রকল্পটি। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ১৮৮ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ৮৭০ কোটি ১৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
এ ছাড়া পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মূল ব্যয় ছিল ৫৮৪ কোটি ৪৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্পে ১,২৭৬ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’-এ ব্যয় হবে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত চলবে প্রকল্পটি। এতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণেও ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
পানি সম্পদে দুটি বড় প্রকল্প
ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ব্যয় হবে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
দুটি প্রকল্পই ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
রংপুরের সড়ক উন্নয়নে প্রায় ৫ হাজার কোটি
রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।
এ ছাড়া মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
পার্বত্য তিন জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক
তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ২ হাজার ৯৯০ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪৪৪ কোটি ৩০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ২ হাজার ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া এসআরবির (সাবেক র্যাব) কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি
ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২১ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধনীও সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ১১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ১৭ হাজার ৯৭ কোটি ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























