ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচ জেলায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ে ভূমিধসের শঙ্কা ভিসা পোর্টাল অচল, ভোগান্তিতে বিদেশে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনকারীরা প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের পক্ষে সরকার কালিহাতীতে বালু মহালে অভিযান, ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা চার জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ, বদলি তিন জেলা প্রশাসক ‘লাশের বদলে লাশ, থানার ইট খুলে নেব’: এনসিপি নেতা জোবায়ের বঙ্গোপসাগরের ২৬ অফশোর ব্লকে বিনিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের ৪৫ বছর আগে মৃত্যু, তবুও মামলার আসামি ৫ জন এখন যৌবন যার, দেশ গড়ার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার: মঈন খান দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, অপরাধীর পরিচয় আড়াল নয়: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের পক্ষে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন—সংবিধান সংশোধনের এমন প্রস্তাবের পক্ষে সরকারের অবস্থান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার এখনো এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

তবে এ প্রস্তাবকে কেউ কেউ অগণতান্ত্রিক ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী মনে করছেন বলেও জানান তিনি। বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য বিষয় নিয়েও বিশেষ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের আরও মতামত ও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোনো কাঠামো এখানে নেই। তাই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতামত এসেছে।

তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সেই অনুযায়ী এগোতে চায় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ।

বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, আলোচনার দরজা সবার জন্য খোলা।

‘জুলাই সনদে’ কোনো বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ জন্য বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটির আলোচনায় অংশ নিতে হবে।

এর আগে বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের মতামত নিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের পক্ষে সরকার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন—সংবিধান সংশোধনের এমন প্রস্তাবের পক্ষে সরকারের অবস্থান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার এখনো এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

তবে এ প্রস্তাবকে কেউ কেউ অগণতান্ত্রিক ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী মনে করছেন বলেও জানান তিনি। বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য বিষয় নিয়েও বিশেষ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের আরও মতামত ও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়ে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোনো কাঠামো এখানে নেই। তাই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতামত এসেছে।

তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় সরকার সেই অনুযায়ী এগোতে চায় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ।

বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, আলোচনার দরজা সবার জন্য খোলা।

‘জুলাই সনদে’ কোনো বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ জন্য বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটির আলোচনায় অংশ নিতে হবে।

এর আগে বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের মতামত নিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।