ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উদযাপন, সময়োপযোগী পাঠ্যক্রমের তাগিদ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে স্কুল অব ফার্মেসির উদ্যোগে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে ফার্মা অলিম্পিয়াড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ভিডিও ও পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের উদ্যোগে এ বছর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘এমপাওয়ারিং ফার্মাসিস্টস ফর হেলদিয়ার ফিউচারস’।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত সেমিনারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফার্মেসি শিক্ষার পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এখন মানবদেহের কোষে সরাসরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার মতো উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ফার্মেসি শিক্ষাক্রম নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসির চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. শরমিন্দ নীলোৎপল। তিনি বলেন, ফার্মেসি খাতকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষাক্রমকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দিতে হবে।
তিনি বলেন, একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশের নিবন্ধন ও গ্রেডিং ব্যবস্থায় আরও কার্যকর মানদণ্ড নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ওষুধের লাইসেন্স প্রদান ও বাজার তদারকিতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আলমগীর হোসেন বলেন, দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে বায়োইকুইভ্যালেন্স নিশ্চিত করলেও স্থানীয় বাজারেও এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে রোগীরা ব্র্যান্ডেড ওষুধ ও জেনেরিক বিকল্পের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে এসিআই হেলথকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম মহিবুজ জামান এবং রেনাটা পিএলসির স্ট্র্যাটেজিক প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কুদসিয়া কাউসার শাহবাজ শেখ দেশের ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বক্তব্য দেন।
তারা এপিআই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি সহায়তা, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসেন। তিনি ফার্মাসিস্টদের রোগীর প্রয়োজন ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।



























