ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পাঁচ জেলায় ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস, পাহাড়ে ভূমিধসের শঙ্কা ভিসা পোর্টাল অচল, ভোগান্তিতে বিদেশে বাংলাদেশের ভিসা আবেদনকারীরা প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের পক্ষে সরকার কালিহাতীতে বালু মহালে অভিযান, ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা চার জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ, বদলি তিন জেলা প্রশাসক ‘লাশের বদলে লাশ, থানার ইট খুলে নেব’: এনসিপি নেতা জোবায়ের বঙ্গোপসাগরের ২৬ অফশোর ব্লকে বিনিয়োগের আহ্বান বাংলাদেশের ৪৫ বছর আগে মৃত্যু, তবুও মামলার আসামি ৫ জন এখন যৌবন যার, দেশ গড়ার যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার: মঈন খান দুর্গাপূজায় গুজব ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, অপরাধীর পরিচয় আড়াল নয়: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

পুরুষের শরীরে জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব, কীভাবে সম্ভব?

বিবিসি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

একজন পুরুষের দেহে গর্ভাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউব পাওয়া গেছে- প্রতীকী ছবি

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিয়ের দুই বছর পরও সন্তান না হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন দিল্লির ২৬ বছর বয়সী এক যুবক। বন্ধ্যাত্বের কারণ খুঁজতে শুরু হয় একের পর এক পরীক্ষা। আর তখনই সামনে আসে বিরল এক শারীরিক বৈশিষ্ট্য—তার শরীরের ভেতরে রয়েছে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব।

বাহ্যিকভাবে তিনি আর দশজন পুরুষের মতোই। পুরুষের স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে তার। এত দিন এমন কোনো লক্ষণও ছিল না, যা দেখে ধারণা করা যায় তার শরীরের ভেতরে নারী প্রজনন অঙ্গের কিছু অংশ রয়েছে।

দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিফ ইউরোলজিস্ট ডা. সুশীল খারবান্দার চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই ব্যক্তি। বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে চিকিৎসকেরা প্রথমে দেখতে পান, তার দুই অণ্ডকোষই স্বাভাবিক অবস্থানে নেই। পরে এমআরআই পরীক্ষায় জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় পারসিস্টেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম (PMDS)। এটি জন্মগত একটি অবস্থা। প্রকাশিত চিকিৎসা-সাহিত্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

পুরুষের শরীরে জরায়ু আসে কীভাবে?

বিষয়টি বুঝতে হলে ভ্রূণের বিকাশের সময় শরীরে যৌন অঙ্গ তৈরির প্রক্রিয়াটি জানা প্রয়োজন।

সাধারণত ৪৬XY ক্রোমোজোম নিয়ে জন্ম নেওয়া ভ্রূণের শরীরে পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। এ সময় অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন বা AMH তৈরি হয়। এই হরমোন ভ্রূণের মুলেরিয়ান নালির বিকাশ বন্ধ করে দেয়।

মুলেরিয়ান নালি হলো ভ্রূণের একটি জোড়া কাঠামো, যা সাধারণত নারীদেহে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউবসহ অভ্যন্তরীণ প্রজনন অঙ্গ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

ডা. সুশীল খারবান্দার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, PMDS-এর ক্ষেত্রে অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন তৈরি না হওয়া কিংবা এর কার্যকারিতায় সমস্যা থাকার কারণে মুলেরিয়ান নালির কিছু অংশ শরীরে থেকে যেতে পারে। ফলে ৪৬XY ক্রোমোজোম ও পুরুষের বাহ্যিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো কাঠামো পাওয়া যায়।

অর্থাৎ এটি কোনো ‘পুরুষের শরীরে নারী হয়ে যাওয়া’ নয়; বরং ভ্রূণের বিকাশের সময় একটি নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে না ঘটার ফল।

ওই যুবকের ক্ষেত্রে কী পাওয়া যায়?

চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই যুবকের শরীরে স্বাভাবিক পুরুষের মতো টেস্টোস্টেরন, এফএসএইচ ও এলএইচ হরমোনের মাত্রা ছিল।

তবে দুই অণ্ডকোষই স্বাভাবিক অবস্থানে ছিল না। বীর্য পরীক্ষায় অ্যাজুস্পার্মিয়া, অর্থাৎ শুক্রাণু পাওয়া যায়নি।

এরপর এমআরআই করা হলে দেখা যায়, জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সঙ্গে অণ্ডকোষের সংযোগ রয়েছে। পরে ক্রোমোজোম পরীক্ষা করে ৪৬XY ক্রোমোজোম নিশ্চিত করা হয়।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির শরীরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব থাকলেও ডিম্বাশয় ছিল না। সেখানে ছিল অণ্ডকোষই।

আগে কেন ধরা পড়েনি?

PMDS সবসময় শৈশবেই শনাক্ত হবে—এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ স্বাভাবিক জায়গায় না থাকাই প্রথম দৃশ্যমান ইঙ্গিত হতে পারে।

ডা. খারবান্দার মতে, সময়মতো স্ক্যান করা হলে ওই ব্যক্তির শরীরে থাকা অস্বাভাবিক গঠন আগেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি নিজে আগে বুঝতে পারেননি যে তার দুই অণ্ডকোষই স্বাভাবিক অবস্থানে নেই।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যথা, জ্বর বা বমির মতো নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকাই গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ হতে পারে।

ক্যান্সারের ঝুঁকিও থাকতে পারে

ওই যুবকের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবসহ সংশ্লিষ্ট অঙ্গগুলো অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অঙ্গ শরীরে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছিল না এবং ভবিষ্যতে জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অস্ত্রোপচারের পর করা বায়োপসিতে একটি অণ্ডকোষে প্রাক-ক্যান্সারজনিত পরিবর্তনও পাওয়া যায় বলে জানান ডা. খারবান্দা।

অণ্ডকোষ অপসারণের পর শরীরে স্বাভাবিকভাবে টেস্টোস্টেরন তৈরি হবে না। তাই ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত টেস্টোস্টেরন নিতে হবে।

তবে চিকিৎসকের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তার স্বাভাবিক সামাজিক ও যৌন জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করায় সাত দিনের মধ্যেই তিনি কাজে ফিরতে পেরেছেন।

এমন ঘটনা আরও আছে

PMDS অত্যন্ত বিরল হলেও চিকিৎসা-সাহিত্যে এর আরও কিছু উদাহরণ রয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে জরায়ুর মতো একটি কাঠামো শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বারবার প্রস্রাবের চাপ ও বীর্যে রক্তের সমস্যায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অংশটি অপসারণের পর হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় সেটিকে জরায়ুর টিস্যু হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনেও দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ডিম্বাশয়ের মতো কাঠামো থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এসব ঘটনা একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি অভিন্ন নয়। তাই প্রতিটি রোগীর শারীরিক গঠন ও চিকিৎসার প্রয়োজন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

নারী হয়ে যাওয়া বা গর্ভধারণ—দুটিই ভুল ধারণা

এ ধরনের ঘটনা সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ওঠে—পুরুষের শরীরে জরায়ু থাকলে কি তিনি গর্ভধারণ করতে পারবেন? তার কি মাসিক হতে পারে? বাইরে থেকে কি নারীসুলভ শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেবে?

ডা. খারবান্দার মতে, এসব ধারণা সঠিক নয়।

ওই যুবকের ক্ষেত্রে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব থাকলেও সেগুলো ছিল অনুন্নত। ডিম্বাশয় ছিল না। ফলে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। একইভাবে নারীদেহের স্বাভাবিক প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোনাল কার্যক্রমও তার শরীরে দেখা যায়নি।

চিকিৎসকের পরামর্শ

নিজের শরীরে এমন অস্বাভাবিকতা জানার পর ওই যুবক মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাকে বোঝানো হয়, এটি একটি বিরল জন্মগত মেডিকেল অবস্থা এবং এর অর্থ এই নয় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব।

ডা. সুশীল খারবান্দার পরামর্শ, শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা লজ্জা বা ভয় থেকে গোপন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশুর জন্মের পর কোনো অঙ্গের অবস্থান বা গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, এ ধরনের জন্মগত সমস্যা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, পরবর্তী জটিলতা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ তত সহজ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পুরুষের শরীরে জরায়ু-ফ্যালোপিয়ান টিউব, কীভাবে সম্ভব?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের দুই বছর পরও সন্তান না হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন দিল্লির ২৬ বছর বয়সী এক যুবক। বন্ধ্যাত্বের কারণ খুঁজতে শুরু হয় একের পর এক পরীক্ষা। আর তখনই সামনে আসে বিরল এক শারীরিক বৈশিষ্ট্য—তার শরীরের ভেতরে রয়েছে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব।

বাহ্যিকভাবে তিনি আর দশজন পুরুষের মতোই। পুরুষের স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যও রয়েছে তার। এত দিন এমন কোনো লক্ষণও ছিল না, যা দেখে ধারণা করা যায় তার শরীরের ভেতরে নারী প্রজনন অঙ্গের কিছু অংশ রয়েছে।

দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিফ ইউরোলজিস্ট ডা. সুশীল খারবান্দার চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই ব্যক্তি। বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে চিকিৎসকেরা প্রথমে দেখতে পান, তার দুই অণ্ডকোষই স্বাভাবিক অবস্থানে নেই। পরে এমআরআই পরীক্ষায় জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় পারসিস্টেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম (PMDS)। এটি জন্মগত একটি অবস্থা। প্রকাশিত চিকিৎসা-সাহিত্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

পুরুষের শরীরে জরায়ু আসে কীভাবে?

বিষয়টি বুঝতে হলে ভ্রূণের বিকাশের সময় শরীরে যৌন অঙ্গ তৈরির প্রক্রিয়াটি জানা প্রয়োজন।

সাধারণত ৪৬XY ক্রোমোজোম নিয়ে জন্ম নেওয়া ভ্রূণের শরীরে পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। এ সময় অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন বা AMH তৈরি হয়। এই হরমোন ভ্রূণের মুলেরিয়ান নালির বিকাশ বন্ধ করে দেয়।

মুলেরিয়ান নালি হলো ভ্রূণের একটি জোড়া কাঠামো, যা সাধারণত নারীদেহে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউবসহ অভ্যন্তরীণ প্রজনন অঙ্গ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

ডা. সুশীল খারবান্দার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, PMDS-এর ক্ষেত্রে অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন তৈরি না হওয়া কিংবা এর কার্যকারিতায় সমস্যা থাকার কারণে মুলেরিয়ান নালির কিছু অংশ শরীরে থেকে যেতে পারে। ফলে ৪৬XY ক্রোমোজোম ও পুরুষের বাহ্যিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো কাঠামো পাওয়া যায়।

অর্থাৎ এটি কোনো ‘পুরুষের শরীরে নারী হয়ে যাওয়া’ নয়; বরং ভ্রূণের বিকাশের সময় একটি নির্দিষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে না ঘটার ফল।

ওই যুবকের ক্ষেত্রে কী পাওয়া যায়?

চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই যুবকের শরীরে স্বাভাবিক পুরুষের মতো টেস্টোস্টেরন, এফএসএইচ ও এলএইচ হরমোনের মাত্রা ছিল।

তবে দুই অণ্ডকোষই স্বাভাবিক অবস্থানে ছিল না। বীর্য পরীক্ষায় অ্যাজুস্পার্মিয়া, অর্থাৎ শুক্রাণু পাওয়া যায়নি।

এরপর এমআরআই করা হলে দেখা যায়, জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সঙ্গে অণ্ডকোষের সংযোগ রয়েছে। পরে ক্রোমোজোম পরীক্ষা করে ৪৬XY ক্রোমোজোম নিশ্চিত করা হয়।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির শরীরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব থাকলেও ডিম্বাশয় ছিল না। সেখানে ছিল অণ্ডকোষই।

আগে কেন ধরা পড়েনি?

PMDS সবসময় শৈশবেই শনাক্ত হবে—এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ স্বাভাবিক জায়গায় না থাকাই প্রথম দৃশ্যমান ইঙ্গিত হতে পারে।

ডা. খারবান্দার মতে, সময়মতো স্ক্যান করা হলে ওই ব্যক্তির শরীরে থাকা অস্বাভাবিক গঠন আগেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি নিজে আগে বুঝতে পারেননি যে তার দুই অণ্ডকোষই স্বাভাবিক অবস্থানে নেই।

এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যথা, জ্বর বা বমির মতো নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকাই গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ হতে পারে।

ক্যান্সারের ঝুঁকিও থাকতে পারে

ওই যুবকের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবসহ সংশ্লিষ্ট অঙ্গগুলো অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অঙ্গ শরীরে কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছিল না এবং ভবিষ্যতে জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অস্ত্রোপচারের পর করা বায়োপসিতে একটি অণ্ডকোষে প্রাক-ক্যান্সারজনিত পরিবর্তনও পাওয়া যায় বলে জানান ডা. খারবান্দা।

অণ্ডকোষ অপসারণের পর শরীরে স্বাভাবিকভাবে টেস্টোস্টেরন তৈরি হবে না। তাই ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত টেস্টোস্টেরন নিতে হবে।

তবে চিকিৎসকের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তার স্বাভাবিক সামাজিক ও যৌন জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করায় সাত দিনের মধ্যেই তিনি কাজে ফিরতে পেরেছেন।

এমন ঘটনা আরও আছে

PMDS অত্যন্ত বিরল হলেও চিকিৎসা-সাহিত্যে এর আরও কিছু উদাহরণ রয়েছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি কেস রিপোর্টে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে জরায়ুর মতো একটি কাঠামো শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বারবার প্রস্রাবের চাপ ও বীর্যে রক্তের সমস্যায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার এই অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অংশটি অপসারণের পর হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় সেটিকে জরায়ুর টিস্যু হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনেও দেড় বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে জরায়ু, ফ্যালোপিয়ান টিউব এবং ডিম্বাশয়ের মতো কাঠামো থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে এসব ঘটনা একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি অভিন্ন নয়। তাই প্রতিটি রোগীর শারীরিক গঠন ও চিকিৎসার প্রয়োজন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

নারী হয়ে যাওয়া বা গর্ভধারণ—দুটিই ভুল ধারণা

এ ধরনের ঘটনা সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ওঠে—পুরুষের শরীরে জরায়ু থাকলে কি তিনি গর্ভধারণ করতে পারবেন? তার কি মাসিক হতে পারে? বাইরে থেকে কি নারীসুলভ শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেবে?

ডা. খারবান্দার মতে, এসব ধারণা সঠিক নয়।

ওই যুবকের ক্ষেত্রে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব থাকলেও সেগুলো ছিল অনুন্নত। ডিম্বাশয় ছিল না। ফলে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। একইভাবে নারীদেহের স্বাভাবিক প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোনাল কার্যক্রমও তার শরীরে দেখা যায়নি।

চিকিৎসকের পরামর্শ

নিজের শরীরে এমন অস্বাভাবিকতা জানার পর ওই যুবক মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাকে বোঝানো হয়, এটি একটি বিরল জন্মগত মেডিকেল অবস্থা এবং এর অর্থ এই নয় যে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব।

ডা. সুশীল খারবান্দার পরামর্শ, শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা লজ্জা বা ভয় থেকে গোপন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশুর জন্মের পর কোনো অঙ্গের অবস্থান বা গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, এ ধরনের জন্মগত সমস্যা যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, পরবর্তী জটিলতা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ তত সহজ হয়।